Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিগঞ্জে বিপজ্জনক অবস্থায় একাধিক জরাজীর্ণ পুরনো বাড়ি

রানিগঞ্জে বিপজ্জনক অবস্থায় একাধিক জরাজীর্ণ পুরনো বাড়ি
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: রানিগঞ্জে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে একাধিক জরাজীর্ণ প্রাচীন বাড়ি। যে কোনও সময়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেই বাড়িগুলির তলাতেই রানিগঞ্জের বিশাল বাজার। প্রতি মুহূর্তে বহু মানুষ যাতায়াত করছে। বাজারে কেনাকাটা করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে সাতটি বাড়ি অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনি জটিলতায় তা করা যায়নি। পুরসভা সূত্রে খবর, মোট ৪০টি বাড়ির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রানিগঞ্জের বরো চেয়ারম্যান মোজ্জামেল শাহাজাদা বলেন, আমরা শহরের ভগ্নপ্রায় বাড়িগুলি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি। সাতটি বাড়িকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে কোনও সময়ে বিপদ হতে পারে। 
Advertisement
রানিগঞ্জ প্রাচীন শহর। আসানসোল, দুর্গাপুরের বিকাশের অনেক আগে থেকে শহরের মর্যাদা পেয়েছে রানিগঞ্জ। আসানসোলের আগে রানিগঞ্জ ছিল মহকুমা শহর। কয়লা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে শহরের বিকাশ হলেও এই শহরের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কবি নজরুল ইসলামের শিক্ষাভূমি এই রানিগঞ্জে বহু বনেদি বাড়ি ছিল। সেই সব শতাব্দী প্রাচীন বাড়িগুলি আজ হয়ে উঠেছে ভগ্নপ্রায়। বাড়ির দেওয়ালে বটগাছ সহ বিভিন্ন আগাছা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করছে। যে কোনও সময়ে বাড়ির একাংশ ধসে বিপদ ঘটতে পারে। চলতি বছরে একাধিক বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে শহরে। যা নিয়ে শহরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাও রানিগঞ্জ বাজারের তিলক রোড, বড় বাজার, মাড়োয়ারিপট্টিতে মূর্তিমান বিপদ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বাড়িগুলি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়িগুলি ভেঙে নতুন বহুতল নির্মাণ করতে চায় মালিকপক্ষ। কিন্তু কোনও বাড়ির নীচে দীর্ঘদিন ধরে দোকান করছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও আবার সেই সব বাড়িগুলিতে দশকের পর দশক ধরে ভাড়ায় আছেন কিছু পরিবার। তাঁদের পুনর্বাসন ছাড়া বাড়ি ভাঙা অসম্ভব। কে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেবে তা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। যাঁর জেরে পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিসের পর নোটিস গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। 
যেসব বাড়িগুলি বাজারের মধ্যে রয়েছে সেগুলি নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তার। বাজারে বয়স্ক থেকে বাচ্চাদের নিত্য আনাগোনা হয়। বাড়ি ভেঙে নীচে পড়লে বহু মানুষের প্রাণহানীরও আশঙ্কাও আছে। স্থানীয় বাসিন্দা বৃষ্টি হাজরা, পর্ণা দে বলেন, প্রশাসনের এনিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তা না হলে যে কোনও সময়ে সাধারণ মানুষের প্রাণ যেতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ