Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানিগঞ্জে বাংলার বাড়ির তালিকা থেকে ৯২জনের মধ্যে বিত্তশালী ৭২ নাম বাদ

রানিগঞ্জে বাংলার বাড়ির তালিকা থেকে ৯২জনের মধ্যে বিত্তশালী ৭২ নাম বাদ
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীদের একমাত্র মুখরক্ষা করেছিল রানিগঞ্জ ব্লকের আমরাসোতা গ্রাম পঞ্চায়েত। জেলার একমাত্র পঞ্চায়েত, যেখানে সিপিএম জয়ী হয়। সেই পঞ্চায়েতে মানুষের হাতে হাতে এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর ফোন নম্বর ঘুরছে। বহু গরিব মানুষ এখনও বাড়ি পায়নি। সিপিএম পরিচালিত পঞ্চায়েতই পরামর্শ দিচ্ছে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন করে বাড়ির জন্য আর্জি জানাতে। সিপিএম নেতৃত্বের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করার পরামর্শ নিয়ে কটাক্ষ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। 
Advertisement
অন্যদিকে এবার বাংলার বাড়ির তালিকার স্বচ্ছ সার্ভে নিয়ে খুশি আমরাসোতার মানুষ। তালিকায় নাম থাকা প্রভাবশালী, বিত্তশালীদের তালিকা থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে প্রশাসন। তা করতে গিয়ে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই পঞ্চায়েতে বাংলার বাড়ির তালিকায় নাম ছিল ৯২জনের। সার্ভের পর মাত্র ২০জনের নাম রইল তালিকায়। পাকাবাড়ি থাকা প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠরা তালিকাতে নাম রাখতে মরিয়া চেষ্টা করলেও প্রশাসন স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে। 
আমরাসোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিপিএম প্রধান সঞ্জয় হেমব্রম বলেন, প্রাথমিক যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে তাতে ৯২জনের মধ্যে ৭২জনের নামই বাদ পড়েছে। কোনও প্রভাবশালী, ধনীদের নাম নেই। এতে আমরা খুশি। তৃণমূল কংগ্রেস ব্লকে প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের নাম ঢুকিয়েছিল। বহু গরিব মানুষ এখনও কাঁচাবাড়িতে বসবাস করেন। আমরা তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছি যাতে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ফোন করে বাড়ি পাওয়ার তালিকায় নাম তোলার আর্জি করতে। 
একদিকে বাংলার বাড়ি গরিব মানুষকে দিতে মরিয়া ছিল প্রশাসন। তেমনই একজন অযোগ্য ব্যক্তিও যেন এই তালিকায় ঢুকে না পড়ে তা নিয়ে সচেষ্ট ছিল। যার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরাসোতা গ্রাম পঞ্চায়েত। রানিগঞ্জ ব্লকের এই পঞ্চায়েতই একমাত্র বিরোধী দল পরিচালিত পঞ্চায়েত। নাম বাদ পড়ার তালিকা দেখে মোটেও অখুশি নয় আমরাসোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসক দল সিপিএম। উল্টে তাঁদের দাবি, প্রশাসন এবার কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সঠিক তালিকা প্রস্তুত করেছে। গরিবদের বাড়ি পাওয়াতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখতে দেখা গেল তাঁদের। 
যদিও ২০১৮ সালের তৈরি আবাস তালিকা নিয়ে আমরাসোতার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, বাংলায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু হওয়া থেকে এখানে সিপিএম পঞ্চায়েতে জিতে আসছে। তাঁরাই ২০১৮ সালে ভুয়ো আবাস তালিকা বানিয়েছিল। সেখানে অনেক ধনী, প্রভাবশালীর নাম দিয়েছিল। এবার প্রশাসন তা বাদ দিয়েছে। দেখে ভালো লাগছে সিপিএমও বুঝেছে গরিব মানুষের উপকার একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে পারেন। সিপিএম নেতা মঙ্গল হেমব্রম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী কোনও দলের নন। আমরা চাই গরিব মানুষ ঘর পাক, সেটা যেভাবেই হোক। ২০১৮ সালে তৃণমূলই প্রভাব খাটিয়ে আবাসের ভুয়ো তালিকা তৈরি করেছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ