Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাট হাসপাতালে জটিল অপারেশন সফল, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন রোগী

রানাঘাট হাসপাতালে জটিল অপারেশন সফল, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন রোগী
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন গর্ভাবস্থার অন্যতম জটিল সমস্যা ‘রাপচার্ড টিউব্যাল অ্যাক্টোপিক প্রেগন্যান্সি’তে জর্জরিত এক যুবতী। শুধু কী তাই, জটিল এই অপারেশনের পর আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন ওই রোগিণী। তবুও রেফার নয়, রানাঘাট হাসপাতালই সফলভাবে রোগনির্ণয় ও তাঁর চিকিৎসা করে কার্যত তাক লাগিয়ে দিয়েছে। 
Advertisement
নদীয়ার গাংনাপুর থানার সেজদে পাড়ার বাসিন্দা রানি দফাদার। মাত্র ২৭ বছর বয়সি ওই তরুণীকে ১১ নভেম্বর তলপেটে ব্যথা নিয়ে রানাঘাট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় সরাসরি তাঁরা প্রেগনেন্সি টেস্ট করেন। তাতে পজিটিভ পাওয়ার পর বোঝা যায় কোনও জটিল গর্ভাবস্থাকালীন সমস্যায় জর্জরিত তিনি। আরও বেশ কিছু পরীক্ষা করে জানা যায়, রক্তাল্পতাতেও ভুগছেন ওই যুবতী। বোঝা যায়, পেটের ভিতরেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তাঁর। সেই রাতেই অস্ত্রোপচার শুরু করেন সার্জন অভিরূপ নস্কর। অস্ত্রোপচার চলাকালীন, ওই যুবতীর পেট থেকে প্রায় ৩ লিটার রক্ত বের করা হয়। এরপর রক্ত দিয়ে ‘রাপ্চার্ড টিউব্যাল অ্যাক্টোপিক প্রেগনেন্সি’র অস্ত্রোপচার করা হয়। 
বিষয়টি ঠিক কী রকম? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, অ্যাক্টোপিক গর্ভাবস্থা হল একটি গর্ভাবস্থা, যা জরায়ুর বাইরে ঘটে। নিষিক্ত ডিম্বাণু এমন একটি স্থানে ইমপ্লান্ট করে, যা তার বৃদ্ধির উপযোগী নয়। যেমন মাঝেমধ্যে ফ্যালোপিয়ন টিউবে প্রক্রিয়াটি ঘটে। রানি দফাদারের ক্ষেত্রেও ঘটনাটি ঠিক একই ছিল। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের প্রভাবে ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে ওই রাতেই আইসিইউতে দেওয়া হয়। কিন্তু বিপদ তখনও কাটেনি। কারণ পরদিন আবার হার্ট অ্যাটাক করে তাঁর। একে আগের দিনের জটিল অস্ত্রোপচার তার উপর হৃদযন্ত্রের সমস্যা, রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে যায় হাসপাতালে। কিন্তু রানাঘাট একটি মহকুমা হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে অনেক বড় হাসপাতালের পরিকাঠামোর মতো রয়েছে ‘অ্যান্টি প্রো বিএনপি’, যা রোগীর হৃদযন্ত্রের সমস্যা তুলে ধরে। এই অবস্থায় রোগীকে অন্যত্র রেফার না করে নিজেই উদ্যোগ নেন অভিরূপবাবু। এসএসকেএম হাসপাতালের কার্ডিয়লজি বিভাগের সঙ্গে টেলিকনসালটেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করে রানিকে হৃদরোগের সমস্যা থেকেও ধীরে ধীরে বের করে আনেন তিনি। ফলে সরকারি হাসপাতালেই একপ্রকার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ওই যুবতী। বুধবার, ২০ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় তাঁকে। সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন এক সময় ভাবেননি বাবা বিশ্ববন্ধু বসু। ছুটির সময় কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, আগে ভাবতাম সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা হয় না। কিন্তু এই সরকারি হাসপাতালই আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিল। সত্যিই আমি কৃতজ্ঞ থাকলাম হাসপাতালের কাছে। 
হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী বলেন, আমরা চেষ্টা করি যাতে সমস্ত রোগীকেই আমরা সুস্থ করে বাড়ি ফেরাতে পারি। হয়তো খুব কঠিন কাজ ছিল। কিন্তু আমাদের চিকিৎসক অভিরূপ নস্কর অত্যন্ত ভালো কাজ করেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন একজনকে। 
সম্পর্কিত সংবাদ