Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রমরম করে কাটা গ্যাসের কারবার চলছে তেহট্টে

রমরম করে কাটা গ্যাসের কারবার চলছে তেহট্টে
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, তেহট্ট: বেশ কিছুদিন আগে তেহট্ট থানা এলাকার একটি তেলেভাজার দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও তাতে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। তার আগে একটি মিষ্টির দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। ঝলসে যায় মালিকসহ পাঁচজন। তার মাস কয়েক আগে মুরুটিয়া থানা এলাকার একটি দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন এক ব্যক্তি। করিমপুর, হোগলবেরিয়া সহ একাধিক থানা এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ জনিত কারণে দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছিল ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার। সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই রান্নার সিলিন্ডার তো বটেই এমনকী সেখান থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে ২ কেজি ও ৫ কেজির অবৈধ ‘কাটা’ গ্যাসও সিলিন্ডারে ভর্তি করা হয়। কাটা গ্যাস ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ তো বটেই, বড় সিলিন্ডার থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস স্থানান্তর করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধানতায় ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু অসাধু উপভোক্তা এর সঙ্গে যুক্ত। কীভাবে চলে এই অবৈধ কারবার? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক কাটা গ্যাস ব্যবসায়ী  জানালেন,  বছরে ১২টি করে ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার পান  প্রত্যেক গ্রাহক। প্রকৃত সিলিন্ডারের মালিককে দিয়ে অনলাইনে বুকিং করানো হয় গ্যাস। বেশিরভাগ গ্রামীণ গ্রাহকেরই প্রতি মাসে গ্যাসের চাহিদা থাকে না। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের অজান্তেই সিলিন্ডারগুলি গ্রামীণ বিতরকদের থেকে চলে আসে ব্যবসায়ীদের কাছে। তার বিনিময়ে বাড়তি কিছু পয়সা দিতে হয় বিতরকদের। এলাকার প্রথম সারির এক রেস্টুরেন্ট  মালিক বলেন,   কমার্শিয়াল গ্যাস কিনতে গেলে কেজি প্রতি যে দাম লাগে তার থেকে তুলনামূলক অনেক কম দামে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এমনিতেই গ্যাসের দাম চড়া। তাই আর সে রাস্তায় হাঁটি না। 
সরকারি নিয়মে রয়েছে শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজেই ব্যবহার করা যাবে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য রয়েছে আলাদা বাণিজ্যিক সিলিন্ডার। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকার কোনও ভর্তুকি দেয় না। কিন্তু বাড়তি মুনাফার আশায় বিভিন্ন হোটেল, রেস্তরাঁ, ফাস্টফুড সেন্টার ও মিষ্টির দোকানে রমরমিয়ে চলছে ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালির সিলিন্ডারের ব্যবহার। জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হলেও তা অপর্যাপ্ত। প্রকাশ্য রাস্তায় কিংবা প্রশাসনিক এলাকার বিভিন্ন দোকানেই এহেন অবৈধ কারবার চলছে। হুঁশ নেই কারও। জেলা পুলিসের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক আধিকারিক জানিয়েছেন,  অভিযোগ পেলেই অভিযান চালানো হয়। লাগাতার অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার। ভবিষ্যতেও অভিযান চালানো হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ