Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হেলিপ্যাড এখন পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র

রামপুরহাটের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হেলিপ্যাড এখন পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ৬ বছর আগে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় রামপুরহাটের হেলিপ্যাড। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও পরিষেবা চালু না হওয়ায় এখন কচিকাঁচাদের ক্রিকেট খেলার পিচ হয়ে উঠেছে হেলিপ্যাড। ওই জায়গায় গজিয়েছে ঘাস।  চড়ছে পশু। জায়গায় জায়গায় পিচ পাথর উঠে বেরিয়ে পড়েছে মাটি। যা সংস্কার করে দ্রুত চালুর দাবি উঠছে।
Advertisement
পুণ্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে ২০১৩ সালের শেষের দিকে কলকাতার বেহালা থেকে বীরভূমের তারাপীঠ পর্যন্ত হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। সেই মতো তারাপীঠের চিলা ব্রিজ সংলগ্ন খেলার মাঠে তিনবার পরীক্ষামূলক পবনহংসের হেলিকপ্টারও নামে। কিন্তু এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ থেকে কপ্টার উড়ানে আপত্তি ওঠে। বিকল্প হিসেবে রামপুরহাট-১ ব্লকের কৃষি খামারের ভিতরের জায়গায় কপ্টার পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই মতো কৃষিজমিতে মাটি ভরাট করে পিচ দিয়ে হেলিপ্যাড গড়ে তোলে পিডব্লুডি। কপ্টার থেকে যাত্রী নেমে হেঁটে আসার জন্য কোমর সমান লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে নীল সাদা রঙ করে রাস্তা করা হয়। ২০১৮ সালের ২১ জুন সেই হেলিপ্যাডেই পরীক্ষামূলক কপ্টার নামে। জ্বালানিও ভরা হয়। সেই সময় পিডব্লুডির কর্তারা জানিয়েছিলেন, এই হেলিপ্যাড লাগোয়া এলাকায় শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিং রুম, কফি শপ তৈরি করা হবে। হেলিপ্যাডের চারিদিকে সবুজায়ন করা হবে। ১২ সিটের এই কপ্টার পরিষেবা খুব শীঘ্রই শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন পরিবহণ মন্ত্রী থেকে আমলা সকলে। 
পরবর্তী সময়ে সমস্ত পরিকাঠামো গড়ে উঠলেও আজও পরিষেবা চালু হয়নি। হেলিপ্যাডের চারিদিকে ঘাস বসিয়ে সবুজায়ন করা হয়। বর্ষার জল পড়ে সেই ঘাস এখন বড় হয়ে গবাদি পশুর খাবারে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়ম করে সেই ঘাস কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। আর হেলিপ্যাড এখন কচিকাঁচাদের ক্রিকেট খেলার জায়গা হয়ে উঠেছে। জায়গায় জায়গায় পিচ, পাথর উঠে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। সেই সময় প্রশাসনিক কর্তারা এটাও জানিয়েছিলেন, যাত্রী পিছু ভাড়া ধার্য হয়েছে ২৫০০ টাকা। তবে সপ্তাহে প্রতিদিন এই পরিষেবা মিলবে কি না তা বলতে পারেননি তাঁরা। তাঁদের মতে সবটাই নির্ভর করছে যাত্রীর উপর। কিন্তু সপ্তাহে একদিন তো দূর, এখনও পর্যন্ত পরিষেবাই চালু করতে পারল না প্রশাসন। যদিও বোলপুরের পারুলডাঙার মাঠ থেকে কলকাতা বোলপুর উড়ান পরিষেবা চালু হয়। কিন্তু এক মাস পরই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। 
এলাকার সিপিএম নেতা সঞ্জিব বর্মণ বলেন, মানুষের করের টাকা মানে তৃণমূলের টাকা। এই ভাবনায় যারা চলে তাঁরা জনগণের অর্থ যথেচ্ছ নয়ছয়, তছরুপ করবে এটাই স্বাভাবিক। বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে সরকার চলছে। যদিও তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, যখন পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যেই এই হেলিপ্যাড হয়েছে, তখন  চালুও হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ