Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটের জঙ্গলে দামি লাল চন্দন গাছে জিপিএস ট্র্যাকার বসাবে বনদপ্তর

রামপুরহাটের জঙ্গলে দামি লাল চন্দন গাছে জিপিএস ট্র্যাকার বসাবে বনদপ্তর
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জঙ্গলে ‘পুষ্পারাজ’ রুখতে এবার দামি লাল চন্দন গাছে জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর প্রস্তাব বনদপ্তরের। প্রতিটি গাছকে জিপিএস দ্বারা ট্র্যাক করা হবে, যাতে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো যায়। কোনও গাছ কেটে পাচারের চেষ্টা হলেই খবর পেয়ে যাবে বনদপ্তর। এর ফলে লাল চন্দনের গাছগুলি সুরক্ষিত রাখা যাবে বলে দপ্তরের দাবি। 
Advertisement
বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানায় নদীর পাড় ও জঙ্গলে চলছে পুষ্পারাজ। সাফ হয়ে যাচ্ছে জঙ্গল। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সক্রিয় চোরা চালানকারীরা। ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে নদীর তীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক অবৈধ কাঠমিল গড়ে ওঠায় বৃক্ষনিধন ক্রমেই বাড়ছে। এসব কাঠমিলের অবস্থান সীমানা এলাকায় হওয়ায় দিন ও রাতে সেখানে অবৈধ কাঠ চেরাই করা হচ্ছে। অবৈধ কাঠমিলের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি চোরকারবারিদের তৎপরতায় নদীপাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, শাল, সেগুন, মেহগনির মতো দামি গাছ কেটে ট্রাক্টর ও মোটর ভ্যানে করে আনা হয় কাঠমিলে। এরপর সেখানে চেরাইয়ের পর রাতের অন্ধকারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট গড়ে চলছে বাস্তবের এই ‘পুষ্পারাজ’। এরই মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে রামপুরহাটের হস্তিকাঁদা জঙ্গল থেকে বহু মূল্যবান লাল চন্দনের গাছ কেটে ট্রাক্টরে চাপিয়ে চলছিল পাচার। খবর পেয়ে পুলিস হানা দিয়ে দু’টি লাল চন্দন গাছের গুঁড়িবোঝাই একটি ট্রাক্টর, একটি মোটরবাইক ও একটি চারচাকা গাড়ি সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গাছের গুঁড়িগুলি নিকটবর্তী কাষ্টগড়া বিট অফিসে রাখা হয়। ঘটনার তদন্ত করছে রামপুরহাট থানার পুলিস। যদিও অভিযুক্তরা সকলেই এখন জামিনে মুক্ত। 
এই ঘটনা সামনে আসতেই দামি লাল চন্দন গাছ পাহারা ও রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বনদপ্তরের কাছে। কারণ, জঙ্গলে আরও লাল চন্দনের গাছ রয়েছে। যদিও কার্যত ‘নিধিরাম সর্দারে’র মতো অবস্থা বনদপ্তরের। পর্যাপ্ত কর্মী নেই। দীর্ঘদিন বনদপ্তরে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই অবস্থায় দামি গাছগুলিকে চোরা শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে চলেছে বনদপ্তর।
ডিএফও রাহুল কুমার বলেন, জঙ্গলে থাকা লাল চন্দন গাছগুলিতে জিপিএস বসানো হবে। সেইমতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গাছ কাটার চেষ্টা করা হলে অটোমেটিক মেসেজ চলে আসবে। আপাতত ওই জঙ্গলে ২৪ঘণ্টা পেট্রলিং ডিউটি চলছে। নিরাপত্তায় কর্মীদেরও রাখা হয়েছে। 
রামপুরহাটে উদ্ধার হওয়া লাল চন্দনের গুঁড়িগুলির মূল্য জানতে তামিলনাড়ু ও অন্ধপ্রদেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে বনদপ্তর। কারণ, ওই রাজ্যগুলি থেকে সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে লাল চন্দন রপ্তানি করা হয়। দপ্তরের এক কর্তা বলেন, এই জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে যেমন নজরদারি রাখা যাবে, তেমনই রেকর্ড থাকবে। গাছ সুরক্ষিত থাকবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ