Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট-বর্ধমানের মধ্যে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের

রামপুরহাট-বর্ধমানের মধ্যে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিড় এড়িয়ে সুরক্ষিত যাত্রার জন্য অধিকাংশ ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট কামরায় পুরুষ যাত্রীদের ওঠা দণ্ডনীয় অপরাধ। সে বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে রেলের। এরপরেও রেলের নির্দেশিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেকেই। পুরুষ যাত্রীর উপস্থিতিতে কামরায় হাতে গোনা মহিলা যাত্রীদের চোখে মুখে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ ধরা পড়ছে। বর্ধমান সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের রামপুরহাট জংশনে এমনই ছবি দেখা গিয়েছে। নজরদারি নেই আরপিএফ বা জিআরপির।   
Advertisement
রা঩জ্যের অধিকাংশ জায়গায় লোকাল ট্রেনের লেডিজ বগিতে পুরুষ যাত্রীদের ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়ছেন মহিলা যাত্রীরা। সেই সঙ্গে চলে অশালীন অঙ্গভঙ্গিও। এসব নিয়ে মহিলা কামরায় মহিলা যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। যদিও রেলের তরফে মহিলা কামরায় অভিযান চালিয়ে পুরুষ যাত্রীদের ধরপাকড়ের পরিসংখ্যান মাঝে মাঝে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এসবের পরেও মহিলা কামরায় পুরুষদের যাত্রা বন্ধ করা যায়নি। বিশেষ করে বর্ধমান থেকে রামপুরহাটগামী লোকালগুলিতে আকছার এমন ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার বর্ধমান থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা বেজে ৮ মিনিট নাগাদ রামপুরহাট জংশনে ঢোকে একটি লোকাল ট্রেন। ট্রেনের কামরার গায়ে ইংরেজিতে বড় হরফে লেখা ‘ওমেন ওনলি’। কিন্তু ট্রেনটি থামতেই সেই কামরা থেকে ওঠানামা করেছেন পুরুষ ও মহিলা যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে একজন শিবানী দাস বলেন, কয়েকমাস আগে শিয়ালদহ ডিভিশনে লোকাল ট্রেনের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় পুরুষরা উঠে পড়ছেন, এই অভিযোগ তুলে কলকাতা  হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে মহিলা স্পেশাল ট্রেনেও পুরুষ যাত্রীরা যাতায়াত করছেন বলেও অভিযোগ ছিল। সেই মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় পুরুষ যাত্রী উঠলে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। প্রয়োজনে স্টেশনে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। কিন্তু রামপুরহাটের মতো ব্যস্ততম জংশনে কোথায় নিরাপত্তা কর্মী? তাহলে ভাবুন ছোট স্টেশনগুলিতে কী অবস্থা হয়। 
মহিলা যাত্রীদের একাংশ বলেন, বিষয়টি একটু রেলের নজরে নিয়ে আসুন। আতঙ্ক নিয়ে যাত্রা করতে হয়। গুটখা, খৈনির গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হয় মহিলা যাত্রীদের। খুব অস্বস্তি হয় যাত্রীদের।
যদিও এব্যাপারে রামপুরহাট আরপিএফ ইনসপেক্টর হংসরাজ মিনা বলেন, লোকাল ট্রেনগুলিতে আরপিএফ না থাকলেও স্টেশনগুলিতে ট্রেন থামা মাত্রই নজরদারি চালানো হয়। কিন্তু এদিন তো কোনও আরপিএফ কর্মীর দেখা মেলেনি? উত্তরে তিনি বলেন, হতে পারে অন্য দিকে ডিউটি করছে। আমি ছুটিতে রয়েছি। খবর নিচ্ছি। কিছুক্ষণ পরে তিনি ফোন করে বলেন, মহিলা কামরায় ওঠার অপরাধে এদিন দুই পুরুষ যাত্রীকে ধরা হয়েছে। কেসও করা হচ্ছে। অন্য঩দিকে রামপুরহাট জিআরপি আইসি সুখেন্দু মণ্ডল বলেন, কোনও মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রী উঠলে তৎক্ষণাৎ ১৩৯-এ ডায়াল করার কথা বলা হয়েছে। অনেকে অভিযোগও জানান। সেই মতো ধরপাকড়ও চলে। কিছু ক্ষেত্রে কেস, আবার কাউকে জরিমানা করা হয়। যাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, মহিলা কোচে উঠে যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে অন্য ট্রেনে সফর করুন। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ।
তবে নিত্যযাত্রীদের অনেকেই বলছেন, লোকাল ট্রেনগুলিতে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। তাতেই মহিলা কামরায় কিছুটা কম ভিড় দেখে পুরুষরা উঠে পড়ছে। তবে এটা কাম্য নয়। একমাত্র রামপুরহাট ও বর্ধমান লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে তবেই এই প্রবণতা কমবে।  • মহিলা কামরা থেকে বেরচ্ছেন পুরুষ যাত্রীরা। নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ