Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় ৩০টিরও বেশি হাম্প এখন বিপদের কারণ

রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার রাস্তায় ৩০টিরও বেশি হাম্প এখন বিপদের কারণ
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দুর্ঘটনা রুখতে রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যাওয়ার সাড়ে চার কিমি রাস্তার উপর বসানো হয়েছে অজস্র হাম্প। সেগুলি দূর থেকে চেনার উপায় না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। হাম্পে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে বহু মোটরবাইক আরোহী আহত হচ্ছেন, মারাও যাচ্ছেন। আবার রাস্তায় বেশি হাম্প থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য সড়কে কমছে গাড়ির গতিও। হাম্পগুলি রং করার পাশাপাশি সংখ্যা কমিয়ে আনার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি অজস্র হাম্প বসানো নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। যদিও মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে বলেন, ওই রাস্তায় হাম্প বসানো নিয়ে আমার কোনও অর্ডার ছিল না। কে বসিয়েছে, কেন বসিয়েছে সেটা দেখতে হবে। একটু বেশিই হাম্প বসানো হয়েছে।  
Advertisement
রামপুরহাট তারাপীঠ রোডে প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটে। অনেকে পর্যটক থেকে এলাকার মানুষ দুঘর্টনায় প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনা রোধে দিন কুড়ি আগে ওই রাস্তায় বসানো হয় প্রচুর হাম্প। স্থানীয় ব্যক্তি হেমচন্দ্র ঘোষ বলেন, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হাম্প তেমন একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু তারাপীঠ রোডে ছবিটা ঠিক উল্টো। সম্প্রতি এই রাস্তায় প্রচুর হাম্প তৈরি করা হয়েছে। দু’টি হাম্পের মধ্যে দূরত্ব মেরেকেটে ১০০ মিটারও নয়। সাড়ে চার কিমি রাস্তায় ৩০টির বেশি হাম্প বসানো হয়েছে। 
সাঁইথিয়া থেকে বাইকে স্ত্রীকে চাপিয়ে পুজো দিতে আসা অনিমেষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, একই জায়গায় পরপর দু’টি প্লাস্টিকের হাম্প বসানো হয়েছে। হাম্পগুলি তৈরি হলেও সেগুলি রং করা হয়নি। ফলে রাস্তা দিয়ে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময়ে আলাদা করে সেগুলি চালকের চোখে পড়ছে না। অসুবিধা বেশি হয় রাতে। পরিকল্পনা না করেই হাম্পগুলি বসানো হয়েছে। এর ফলে বিপদ বাড়বে। 
এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য বলছেন, এই রাস্তায় হাম্পের প্রয়োজন ছিল। রাস্তা ভালো হওয়ায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অটো সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করত। এলাকার মানুষের রাস্তা পেরনোই দায় হয়ে পড়েছিল। এই রাস্তার পাশেই বড়শাল হাইস্কুল, পঞ্চায়েত অফিস রয়েছে। 
তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, এই রাস্তায় হাম্পের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছে। অনেকে দেখতে না পেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। 
জানা গিয়েছে, রাস্তাটি পিডব্লুডি-র অধীনে। এত বেশি হাম্পের কারণ প্রসঙ্গে দপ্তরের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জয়ব্রত রায় বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ওই রাস্তায় হাম্প বসানো হয়নি। মহকুমা শাসকের অধীনে থাকা সেফটি সিকিউরিটি কমিটি রয়েছে। সেখানে কোথায় হাম্প বসনো হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তার ভিত্তিতে পুলিস ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে সেগুলি বসানো হয়েছে। 
পর্যটক বোঝাই এক বাসের চালক রতন মণ্ডল বলেন, মাসে দুই থেকে তিনবার তারাপীঠে আসতে হয়। রামপুরহাট থেকে তারাপীঠ যেতে আগে মিনিট কুড়ি সময় লাগত। এখন গাড়ির গতি কমে যাওয়ায় ওই দূরত্ব যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগছে। 
মহকুমা শাসক বলেন, পরিকল্পনা ছাড়াই হাম্পগুলি বসানো হয়েছে। ওই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু একটু বেশিই হয়ে গিয়েছে। তবে রোড সেফটি কমিটিতে এই রাস্তায় হাম্প বসানো নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। পরবর্তী মিটিংয়ে বিষয়টি তুলব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ