Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট স্টেশনে অধিকাংশ সময় চলে না লিফট ও চলমান সিঁড়ি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রামপুরহাট স্টেশনে অধিকাংশ সময় চলে না লিফট ও চলমান সিঁড়ি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কখনও অচল লিফট, তো কখনও বিকল চলমান সিঁড়ি। বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ শাখায় ব্যস্ততম জংশন রামপুরহাটে যাত্রী পরিষেবার এমনই হাল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীরা। তাঁদের সিঁড়ি ভেঙে ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্বভাবতই গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
Advertisement
রামপুরহাট জংশনে নেমে তারাপীঠ মন্দিরে যাওয়া-আসা করেন দেশের নানা প্রান্তের পর্যটকরা। এছাড়া মহকুমা শহর হওয়ায় আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করেন। এই স্টেশন থেকেই ট্রেন ধরে দেওঘর, দুমকা বা ভাগলপুর যাতায়াত করেন বহু যাত্রী। বন্দে ভারত সহ একাধিক দূরপাল্লার  ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে এই জংশনে। বর্তমানে এই স্টেশনের পরিষেবা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ যাত্রীদের। মাসের অধিকাংশ দিনই এখানে অচল থাকে চলমান সিঁড়ি থেকে লিফট। যাত্রীরা বলেন, লিফট বা চলমান সিঁড়ি নিয়ে হইচই করলেই সেটি চালু হয়ে যায়। তাঁদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে তা বন্ধ করে রাখা হয়।
রামপুরহাটের গৃহবধূ পেশায় সরকারি কর্মী সীমা মণ্ডল বলেন, গত সোমবার হাওড়া-ভাগলপুর বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ধরে রামপুরহাট জংশনে শ্বশুরবাড়িতে আসি। সঙ্গে ছেলে ও লাগেজ ছিল। চলমান সিঁড়ির কাছে গিয়ে দেখি সেটি বন্ধ। বাধ্য হয়ে খুব কষ্ট করে চলমান সিঁড়ি ভেঙে ওভারব্রিজে উঠি। নীচে নামার লিফটও চলছিল না। প্রায়ই হাওড়া রামপুরহাট যাওয়া আসা করতে হয়। খুব কমদিনই চলমান সিঁড়ি সচল থাকে। 
পুজোর সময় বাবা ও মাকে নিয়ে বোনের বাড়িতে আসেন সন্দীপন হাজরা। তিনি বলেন, ষাটোর্ধ্ব বাবার হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। ট্রেন থেকে নেমে ওই অবস্থায় ৫নম্বর প্ল্যাটর্ফম ধরে অনেকটা হেঁটে লিফটের কাছে এসে দেখছি সেটি বন্ধ। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর স্টেশন ম্যানেজারের অফিসে পরিচয়পত্র জমা দিয়ে হুইলচেয়ার নিয়ে যাই। বাবাকে বসিয়ে অনেক কষ্ট করে ১নম্বর প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসি। মঙ্গলবার রাতেও একই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন ইয়াসমিন মোল্লা। তিনি বলেন, হার্টের অসুখে হাঁটা নিষেধ। স্টেশনে চলমান সিঁড়ি থাকা সত্ত্বেও হেঁটেই ওভারব্রিজের সিঁড়ি ভেঙে ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামতে হয়েছে। 
যাত্রীদের অভিযোগ, ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতি। নিয়ম অনুযায়ী অচল থাকলে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই স্টেশনে সেটাও করা হয় না। রেল আধিকারিকদের উদাসীনতায় রামপুরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের এমন হাল। তৃণমূল প্রভাবিত রামপুরহাট রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিয়ামত আলি বলেন, চলমান সিঁড়ি, লিফট অচল থাকায় কাজে লাগে না। অধিকাংশ যাত্রী এখন নিজের মোবাইল থেকেই টিকিট কাটছেন। ফলে অতিরিক্ত ট্যাক্সও দিতে হচ্ছে। তারপরও পরিষেবা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। অথচ জেলার মধ্যে টিকিট বিক্রিতে রামপুরহাট জংশন প্রথম। 
এব্যাপারে স্টেশন ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, লিফট ও চলমান সিঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে স্পষ্ট বলা আছে, যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে অচল হয়ে গেলে বোর্ড টাঙাতে। সেই মেসেজ স্টেশন ম্যানেজারকে দিতে হবে। যাতে যাত্রীদের জানানো বা মাইকিং করে বলা যায়। কিন্তু বারবার বলা হলেও সেটা মানা হচ্ছে না। কী কারণে বারবার সমস্যা হচ্ছে, সেটা দেখছি। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।
সম্পর্কিত সংবাদ