Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে রেলের সীমানা পাঁচিল দেওয়া ঘিরে পুরসভার সঙ্গে তরজা, পাঁচমাথা থেকে ডাকবাংলো মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা

রামপুরহাটে রেলের সীমানা পাঁচিল দেওয়া ঘিরে পুরসভার সঙ্গে তরজা, পাঁচমাথা থেকে ডাকবাংলো মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উত্তেজনা
  • ১০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে না জানিয়ে রেলের সীমানা পাঁচিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ পুরসভা। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রেল ও পুরসভার সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। আরপিএফ ও আধিকারিকদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। পুরসভার চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দেন দু’টি লরি যাওয়ার মতো রাস্তা ছাড়া না হলে কাজ করতে দেওয়া হবে না। যদিও এই নিয়ে স্থানীয় রেল কর্তাদের কেউই মন্তব্য করতে চাননি। 
Advertisement
রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফটকদুয়ার থেকে রেলের স্লিপার ফ্যাক্টরি হয়ে ক্যানেল পাড় বরাবর রয়েছে হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তা। কয়েকদিন ধরে সেই রাস্তার ধারে সীমানা পাঁচিল দেওয়ার কাজ শুরু করেছে রেল। এদিন ফটক দুয়ারের কাছাকাছি এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি করার সময় স্থানীয় মানুষজন কাজে বাধা দেন। তাঁদের দাবি, এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ নিত্যদিন মেডিক্যালে যাওয়া আসা করেন। তার উপরে স্লিপার ফ্যাক্টরিতে অনবরত লরি যাতায়াত লেগেই রয়েছে। বিশেষ করে স্কুল ও অফিস টাইমে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এরপর রেল যেখানে সীমানা পাঁচিল দিচ্ছে তাতে রাস্তা আরও সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত, ১ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার যথাক্রমে বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল ও অষ্টম মণ্ডল। আরপিএফ ও আধিকারিকরা চেমারম্যানকে বলেন, রেল তাঁর নিজের জায়গায় পাঁচিল দিচ্ছে। পাল্টা চেয়ারম্যান বলেন, সীমানা পাঁচিল দেওয়ার আগে মাপজোক করার প্রয়োজন। তাছাড়া পুরসভাকে জানানো উচিত ছিল। আপনারা যদি সীমানা পাঁচিল দিতে চান তাহলে দিনে ফ্যাক্টরিতে লরি যাতায়াত বন্ধ রেখে রাতে চালান। আর যদি ফ্যাক্টরি চালাতে হয়, তাহলে দু’টি লরি যাতায়াতের মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছাড়তে হবে। তবেই কাজ করতে দেব। এই নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় আরপিএফ ও আধিকারিকদের। চেয়ারম্যান বলেন, যেদিন থেকে এই পাঁচিল দেওয়া শুরু হয়েছে সেদিন থেকে এখানকার রেলের ইঞ্জিনিয়ারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। উত্তর দেওয়া দূর, চিঠি রিসিভই করা হচ্ছে না। রেল কোনও প্রোটোকল মানে না। বিষয়টি এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ শতাব্দী রায়কে বলব। যাতে সংসদে বিষয়টি তোলা হয়। স্বভাবতই রেল ও পুরসভার সংঘাত প্রকাশ্যে এসে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে চেয়ারম্যান বলেন, রেল রামপুরহাটের অনেক জায়গায় পাঁচিল দিয়েছে। আমরা আপত্তি করিনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় যানজট বড় সমস্যা। রেল সীমানা পাঁচিল দিক। কিন্তু জনসাধারণকে মাপজোক করে দেখিয়ে দিতে হবে তাঁদের কতটা জায়গা আছে। এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে যদি এক-দু’ফুট জায়গা রেলকে ছাড়তে হয় ছাড়বে। কারণ, রাজ্য হোক বা কেন্দ্র, মানুষের জন্যই সরকার। যদি রেল মনে করে জোর করে পাঁচিল দেবে তাহলে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি এদিন রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ডাকবাংলো মোড় পর্যন্ত ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে আসে রেল আধিকারিক ও আরপিএফ। যা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। এই নিয়ে আরপিএফ ও ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বচসায়ও জড়িয়ে পড়েন। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। শুক্রবার রেল ফের অভিযানে নামবে বলে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ