Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে রেলবস্তি উচ্ছেদের নোটিস

রামপুরহাটে রেলবস্তি উচ্ছেদের নোটিস
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সামনে হাড়কাঁপানো শীতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এরই মধ্যে অসহায় বস্তিবাসীদের সাতদিনের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে রেল। রেলের এই চূড়ান্ত অমানবিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হয়েছে সর্বস্তরে। শীতের এই সময় ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে দিশাহারা অবস্থা বস্তিবাসীদের। এই অবস্থায় আগে পুনর্বাসন পরে উচ্ছেদের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।
Advertisement
বেশ কিছুদিন ধরে রামপুরহাটে রেলের জায়গা খালি করতে অভিযান জারি রয়েছে। ইতিমধ্যে স্টেশন চত্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে তারা। এবার স্টেশন সংলগ্ন রেলের জায়গায় বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করার লক্ষ্য তাঁদের। 
রামপুরহাট পুরসভার ১ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড লাগোয়া রেলের জায়গায় দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করছেন বহু দুঃস্থ মানুষজন। এঁদের কেউ পরিচারিকার কাজ করেন। কেউবা ঘুরে ঘুরে মহিলাদের হাতের চুড়ি বিক্রি করেন। কেউবা হোটেল সহ নানা দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন। এর আগে গত আগস্ট মাসে রেলের জায়গা খালি করতে নোটিস সাঁটানো হয়। পুনবার্সন না দিয়ে উচ্ছেদ নয়, এমন দাবি করে বিক্ষোভ ও স্টেশন ম্যানেজারের মাধ্যমে রেলের একাধিক দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেয় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি, কংগ্রেস ও সিপিএম। কিন্তু রেল উচ্ছেদের পক্ষেই অনড় থাকে। সকলে মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুললে পিছু হটে রেল। 
এবার শীতের এই সময় ফের বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে রেল। তাতে বলা হয়েছে, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জায়গা খালি করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ চালানো হবে। এর আগে রেলের জায়গায় থাকা দোকানগুলি জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে রেল। স্বভাবতই উচ্ছেদের আশঙ্কা গ্রাস করেছে দেড়শো বস্তিবাসীকে। 
এদিন আইএনটিটিইউসি ব্যানার হাতে শিশু কোলে রেলের এইএন অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান বস্তিবাসীরা। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মহিলা। পরে তাঁরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। এদিন আন্দোলনে শামিল বহু মহিলাকে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে দেখা গিয়েছে। তাঁদেরই একজন ঝর্ণা বিবি বলেন, ছিটেবেড়া বানিয়ে বসবাস করি। ৭ ডিসেম্বর ভেঙে দেব বলছে রেল। শীতের এই সময় আমরা যাব কোথায়? সাধ্যের মধ্যে ঘর ভাড়াও পাচ্ছি না। সাত হাজার টাকার নীচে কেউই ভাড়া দিতে চাইছেন না। সামান্য আ঩য়ে সংসার চালানোই দায়, তার উপরে এত ভাড়া কোথায় পাব? আমাদের থাকার ব্যবস্থা তো মোদি সরকারকেই করতে হবে। 
অন্যদিকে নূরজাহান বিবি বলেন, এলাকায় ঘুরে ঘুরে চুড়ি বিক্রি করি। স্বামী মারা গিয়েছে। ঝুপড়ি বাড়িতে মেয়ে ও ছোট নাতি নাতনি নিয়ে থাকি। কনকনে শীতের এই সময় এদের নিয়ে এখন কোথায় যাব। তাই থাকার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমরা উচ্ছেদ করতে দেব না। তাতে যদি আমাদের প্রাণ যায় তো যাবে। যদিও এই নিয়ে এইএন সংবাদ মাধ্যমে কিছু বলতে চাননি। তবে রেলের এক আধিকারিক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সর্বত্র রেলের জায়গা দখলমুক্ত করতে হবে। 
যদিও এলাকার সিপিএম নেতা সঞ্জীব বর্মন বলেন, এই সময় রেলের উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অমানবিক। বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। কেন্দ্রের উচিত দুঃস্থ মানুষদের স্বার্থে সেই অধিকার রক্ষা করা। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।  
অন্যদিকে আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, ভরা শীতের সময় এত মানুষ কোথায় যাবেন। এঁরাও তো দেশেরই মানুষ। মানবিকতার দিক থেকে চিন্তাভাবনা করুক রেল।
সম্পর্কিত সংবাদ