Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে রুখল প্রশাসন

রামপুরহাটে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে রুখল প্রশাসন
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বয়স মাত্র ১১ বছর। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তারই নাকি লুকিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন অভিভাবকরা। বিয়ে করার জন্য বছর একুশের পাত্রও পৌঁছে যায়। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে এই খবর পেয়েই তড়িঘড়ি বিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন। চাইল্ড লাইন, ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির প্রতিনিধি, কাউন্সিলারকে সঙ্গে নিয়ে নাবালিকার বাড়ি পৌঁছে যায় পুলিস। বিয়ে বন্ধ করা হয়। এই ঘটনা কোনও পাড়া গাঁয়ের নয়। রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।  
Advertisement
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার নগরা গ্রামের বছর একুশের যুবকের সঙ্গে বিয়ের ঠিক করেছিল নাবালিকার পরিবার। সেই মতো পেশায় দিনমজুর পাত্র হাজিরও হয়ে গিয়েছিল। যদিও তার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিল না। রামপুরহাটের স্থানীয় মন্দিরে গোপনে চার হাত এক করার কথা ছিল। তার আগেই প্রশাসনের লোকজন পৌঁছে যায়। পুলিস দেখে চম্পট দেয় পাত্র। প্রশাসনের তরফে অভিভাবকদের নাবালিকা বিয়ের কুফল বোঝানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্কলারশিপ সহ নানা প্রকল্পের সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দিলে পাত্র সহ সকলের হাজতবাস হতে পারে। স্থানীয়রাও জড়ো হয়ে নাবালিকার পরিবারের তীব্র সমালোচনা করেন। ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দেয় পরিবার। 
পেশায় দিনমজুর নাবালিকার বাবা বলেন, পরিবারে অভাব রয়েছে। তাছাড়া দিনকাল খারাপ। তাই মেয়ের বিয়ের ঠিক করেছিলাম। ১৮ বছর আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়াটা যে অপরাধ, সেটা জানা ছিল না। পুলিসের কথামতো, এখন মেয়ের বিয়ে দেব না। 
ওই ছাত্রী বলে, আমার অমতেই বিয়ে ঠিক করেছিল। আমি পড়াশোনা করতে চাই। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার প্রিয়নাথ সাউ বলেন, আমি খবর পেয়েই এসেছি। গরিব পরিবার। অভিভাবকরা পড়াশোনা জানে না। নাবালিকা বিয়ের ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা হতে পারে, সেটাও তারা জানত না। পুলিস প্রশাসনের পাশাপাশি আমিও তাদের বুঝিয়েছি। অভিভাবকরা তাঁদের ভুল স্বীকার করেছেন। ওই নাবালিকার পড়াশোনার ক্ষেত্রে সমস্তরকম সহযোগিতা করব।  
ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির বিচারক নিরুপমা দাস ভৌমিকের প্রতিনিধি কৌশিক পাল বলেন, নাবালিকার বয়স ১১ বছর। তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পুলিস, আইসিডিএস কর্মীদের ওই নাবালিকার যাতে ফের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় তা নজরে রাখতে বলা হয়েছে। এরপর যদি পরিবার ওই নাবালিকার বিয়ে দেয় তাহলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শতাংশের বিচারে নাবালিকা প্রসূতিতে রাজ্যের মধ্যে প্রথম বীরভূম। নানা সরকারি প্রকল্প ও সচেতনতামূলক প্রচারের পরেও বাল্যবিবাহে প্রবণতা বেড়েই চলেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ