Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট মেডিক্যালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় কড়াকড়ি, চলল লা‌ইভ স্ট্রিমিং

রামপুরহাট মেডিক্যালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় কড়াকড়ি, চলল লা‌ইভ স্ট্রিমিং
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মেডিক্যাল পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবি তুলেছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও জুনিয়র ডাক্তাররা। কড়াকড়ির নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি রামপুরহাটেও কড়া নিরাপত্তায় দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হল। পরীক্ষার লাইভ স্ট্রিমিংও চলল। ইউনিভার্সিটির অবজারর্ভার ও পুলিসের উপস্থিতিতে সেই পরীক্ষা শুরু হল। আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পর বিচারের দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যালের পাশাপাশি আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল রামপুরহাটেও। লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে এসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। বিচারের পাশাপাশি তাঁরা থ্রেট কালচার, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা সহ একাধিক দাবিতে অধ্যক্ষকে ডেপুটেশন দিয়েছেন। তাঁরা পরীক্ষায় বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। আন্দোলনের অন্যতম মুখ শাহবাজ শেখদের অভিযোগ ছিল, বেশকিছু চিকিৎসকের অনুগামী ছাত্রদের বেশি নম্বর দিয়ে অনার্স পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি করেন। যদিও ২০২৩সালে তৃতীয় বর্ষের কমিউনিটি মেডিসিনের পার্ট-ওয়ানের পরীক্ষার হলে এই শাহবাজই টুকলি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন। তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। পরে অবশ্য অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান। 
Advertisement
রাজ্যস্তরেও মেডিক্যাল পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবি ওঠে। তখনই ডাক্তারি পরীক্ষায় কড়াকড়ির নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশিকায় বলা হয়, প্রত্যেক পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং চলবে। প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় তারজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। টোকাটুকি বা অনিয়ম করলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তের খাতা বাতিল করা হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়।  
এদিন রামপুরহাট মেডিক্যালের দু’টি হলে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বর্ষের ৯৯জন পরীক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে দু’জন অনুপস্থিত ছিলেন। দু’টি হলে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। হলঘরে আগে থেকে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল। যদিও পরীক্ষায় স্বচ্ছতার জন্য ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে একাধিক সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। যা সরাসরি দিল্লি ও ইউনিভার্সিটি থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষার হলে পরীক্ষক থেকে পরীক্ষার্থী কাউকে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সকলকে পরীক্ষা করে হলে ঢুকতে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের বসানো হয়। প্রশ্নপত্র বের করা থেকে উত্তরপত্র জমা, সবকিছুর লাইভ স্ট্রিমিং হয়। নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল পুলিস। শুধু তাই নয়, পুলিসের উপস্থিতিতে উত্তরপত্র হস্তান্তর করা হয়। অধ্যক্ষ করবী বড়াল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যা পরামর্শ দিয়েছেন তা আমরা মেনে চলেছি। খুব ভালোভাবে পরীক্ষা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ