Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাটে দিনমজুরের অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব প্রায় ৩৫ হাজার টাকা

রামপুরহাটে দিনমজুরের অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব প্রায় ৩৫ হাজার টাকা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার জননী সুরক্ষা যোজনার আর্থিক সুবিধা দেওয়ার নামে উপভোক্তার ওটিপি জেনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। শনিবার রামপুরহাট সাইবার ক্রাইম থানায় এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। যদিও তিনদিন পেরিয়ে গেলেও প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
Advertisement
রামপুরহাটের শিফলকুঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা মালতি মার্ডি। তাঁর স্বামী গাড়ি চালান। সামান্য আয়ে কোনওরকমে তাঁদের সংসার চলে যায়। কয়েক মাস আগে মালতিদেবী রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম সন্তানের জন্ম দেন। জননী সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের জন্য সরকার থেকে আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। যার মাধ্যমে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট টাকা পাঠানো হয়। মায়ের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগানের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে। এবার সেই প্রকল্পকে হাতিয়ার করে মালতিদেবীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।
মালতিদেবী বলেন, গত বৃহস্পতিবার একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, রামপুরহাট হাসপাতাল থেকে বলছি। এরপর মেয়ের ও আমার নাম বলে জননী সুরক্ষা যোজনার টাকা দেওয়ার কথা বলে। সেইমতো ইউপিআই নম্বর দিতে বলে। আমার সেই সব নম্বর নেই। ফলে স্বামীকে ফোনটা দিই। স্বামীরও ওই নম্বর ছিল না। তাই ভাসুরের নম্বর দেয়।
মালতিদেবীর স্বামী শ্যামল মার্ডি বলেন, স্ত্রী ও মেয়ের নাম বলায় আমার সন্দেহ হয়নি। বলা হয়, জননী সুরক্ষায় টাকা দেওয়া হবে। আমার ইউপিআই নম্বর না থাকায় দাদা সুফল মার্ডির নম্বর দিই। তারপরই ওটিপি জানতে চায়। শ্যামলবাবুর দাদা সুফল মার্ডি বলেন, ওই ওটিপি বলে দেওয়ার কিছু সময় পরে ফোনে একটি এসএমএস আসে। তারপরই আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। 
শ্যামলবাবু বলেন, দাদার ও আমার দু’জনেরই আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিল দাদা। প্রতারকরা সমস্ত টাকাই হাতিয়ে নিল। এখন কী যে করি ভেবে পাচ্ছি না। শ্যামলবাবু বিষয়টি রামপুরহাট মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি শুক্রবার তিনি রামপুরহাট থানায় যান। ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট সহ সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। শনিবার সেই স্টেটমেন্ট সহ সাইবার ক্রাইম থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ জানান। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। 
অন্যদিকে, রামপুরহাট মেডিক্যালের এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, মেডিক্যাল থেকে কারও কাছ থেকে ব্যাঙ্কের তথ্য চাওয়া হয় না। এক্ষেত্রে অন্য কারও নয়, মায়ের নামে থাকা অ্যাকাউন্ট নম্বর সহ আবেদন করতে বলা হয়। তিনি আরও বলেন, রামপুরহাট মেডিক্যালকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক প্রতারণা চক্র গরিব মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ