সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগরের কাদুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ এলাকায় গোষ্ঠেশ্বরী জিউয়ের পুজোর প্রসাদ খেয়ে অসুস্থ তিনশোরও বেশি মানুষ। মালঞ্চ সহ পার্শ্ববর্তী পশ্চিম কলাপুঞ্জা, আড়িয়া পদ্মপুর, মানিকবসান গ্রামের মানুষজন অসুস্থ হয়েছেন। এমনকী লাগোয়া এগরার পানিপারুল পঞ্চায়েতের দেবীদাসপুর ও কুলটিকরির বাসিন্দারাও অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে মহিলা ও শিশু, কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা বেশি। তাঁদের বমি, পায়খানা, পেট ও গা-হাত ব্যথা, হালকা জ্বর প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। বর্তমানে ৫৪ জন রামনগরের বড়রাঙ্কুয়ায় গ্রামীণ হাসপাতাল, এগরার পানিপারুল গ্রামীণ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সোমবার বড়রাঙ্কুয়া হাসপাতালের অধীনে তিনটি মেডিক্যাল টিম মালঞ্চয় মেলা প্রাঙ্গণে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে। ক্যাম্প থেকে এপর্যন্ত আড়াইশোরও বেশি অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। আশাকর্মী ও এএনএম নার্সরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। এদিন বিকেলে মালঞ্চয় যান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসিত দেওয়ান ও কাঁথির অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অদ্বৈত মুদি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যাপারে সবরকম তদারকি করেন এবং এলাকাবাসীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। বড়রাঙ্কুয়া হাসপাতালে গিয়েও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। ওই প্রসাদ বাসি ছিল, না কি সবার অগোচরে তাতে কিছু পড়ে গিয়ে এমন বিষক্রিয়া হল, তা জানার চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালঞ্চ এলাকায় গোষ্ঠেশ্বরী জিউয়ের পুজো ও মেলা শতাধিক বছরের পুরনো এবং বেশ নামকরা। শনিবার থেকে সেখানে পুজো উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। চলবে আগামী ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত। রবিবার নিত্যপুজো, চণ্ডীপাঠের পর মানুষকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বহু মানুষ সেই প্রসাদ খান। মূলত চিঁড়ে ও ফলমূল দেওয়া হয়। তারপর রাতের দিকে একে একে অসুস্থ হতে শুরু করেন। অসুস্থর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। ভোর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে থাকেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বড়রাঙ্কুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। এগরার পানিপারুল হাসপাতালে ৯ জন, কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে দু’জন ও দীঘা হাসপাতালে একজন। এদিন পানিপারুল হাসপাতালে আক্রান্তদের দেখতে যান এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি। কাদুয়া এলাকার বাসিন্দা শুভাশিস মাইতি বলেন, রাত থেকে অসুস্থর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কেন বিষক্রিয়া হল, সেটা পরিষ্কারভাবে জানানোর জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। খাবার খেয়ে বহু মানুষ অসুস্থ হয়েছেন, এটা ঠিক। তবে আতঙ্কেও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ওই খাবার থেকে বিষক্রিয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়িতে রয়েছেন। যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের যথাসম্ভব চিকিৎসা চলছে। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য তমলুক মেডিক্যাল কলেজ পাঠানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে মলের নমুনাও। আমরা মেলায় খাবারের দোকানগুলিতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের কথা বলেছি। একইসঙ্গে মেলার দিনগুলিতে এলাকায় মেডিক্যাল টিম রাখার কথা সংশ্লিষ্ট ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিককে বলা হয়েছে।



