সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগর থানার বসন্তপুরে মহিলার মুণ্ডহীন খণ্ড-বিখণ্ড দেহ উদ্ধারের ঘটনার পর ১৫দিন কেটে গিয়েছে। এখনও পুলিস ওই মহিলার পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এপর্যন্ত তদন্তে যা উঠে এসেছে, তাতে খুনের সঙ্গে তান্ত্রিক যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিস। এর আগে পুলিস ড্রোন ও স্নিফার ডগ নিয়ে এলাকায় তল্লাশি চালালেও কাটা মাথা, ডান পা ও বাঁ হাতের খোঁজ মেলেনি। জেলার বিভিন্ন থানা থেকে এব্যাপারে কোনও সূত্র পাওয়া যায়নি বলেই খবর। তাই দেহটি বহিরাগত কোনও মহিলারই মনে করছে পুলিস। পুলিসের আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনাস্থল থেকে তিন-সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরেই প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। সম্ভবত ওড়িশার কোনও এলাকায় খুনের পর টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। তারপর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাগোয়া রামনগরের এই জঙ্গলময় এলাকায় ফেলে দিয়ে যায়। এই ভয়ঙ্কর হত্যা রহস্যের কিনারা করতে ওড়িশা ও বর্ধমানের তান্ত্রিকদের যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানাগুলিতে দেহের ছবিও পাঠানো হয়েছে। ওড়িশা ও বর্ধমানে পুলিসের একটি দল গিয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত চালিয়েছে বলে খবর। তদন্তকারী পুলিস অফিসারদের সন্দেহ, কালীপুজোর সময় অমাবস্যায় তন্ত্রসাধনার জন্য এখনও অনেক তান্ত্রিক নরবলি দেয়। বিশেষ করে এইসব তান্ত্রিক মানুষের মাথা তন্ত্রসাধনার কাজে ব্যবহার করে। সম্ভবত সেই উদ্দেশ্যে খুন করা হয়েছে।
Advertisement
বসন্তপুর পঞ্চায়েতের প্রধান গৌতম জানা বলেন, আমাদের ধারণা দুষ্কৃতীরা ওড়িশার হতে পারে। প্রমাণ লোপাট এবং পুলিসকে বিভ্রান্ত করার জন্য সীমানা পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে বস্তাবন্দি দেহ এখানে ফেলে দিয়ে গিয়েছে। এবিষয়ে ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে। ঘটনার জোরদার তদন্ত চলছে। কোনও সম্ভাবনা বা সূত্রের কথাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আশা করছি, এই হত্যা রহস্যের তাড়াতাড়ি সমাধান হবে।



