Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি বিজড়িত কলাইঘাটায় সেন্টার তৈরি করতে উদ্যোগী রামকৃষ্ণ মিশন

রামকৃষ্ণদেবের স্মৃতি বিজড়িত কলাইঘাটায় সেন্টার তৈরি করতে উদ্যোগী রামকৃষ্ণ মিশন
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের পদধূলিধন্য কলাইঘাটা নিয়ে আগ্রহী রামকৃষ্ণ মিশন। তাই ঐতিহাসিক স্থানটিতে একটি নিজস্ব সেন্টার তৈরি করতে চায় তারা। ইতিমধ্যেই সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবং উপযুক্ত ছাড়পত্র চেয়ে প্রশাসনিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিকটবর্তী শান্তিপুর বাঘাআছড়া রামকৃষ্ণ মিশনের জায়গা পরিদর্শন করে গিয়েছেন তারা।
Advertisement
রানাঘাট শহরের রূপকণ্ঠে রয়েছে কলাইঘাটা। চূর্ণি নদীর তীরে ছোট্ট জনপদ। অথচ সেই জায়গায় পদধূলি পড়েছিল স্বয়ং রামকৃষ্ণদেবের। এলাকার দরিদ্র অভাবী মানুষদের দেখে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল ঠাকুরের মন। টানা সাতদিন চালিয়েছিলেন সেবাযজ্ঞ। কী সেই ইতিহাস? ‘জার্নিস উইথ রামাকৃষ্ণ’ বইয়ে বলা হচ্ছে, একবার শ্রীরামকৃষ্ণ জমিদার মথুরামোহনের সঙ্গে নৌকা করে পাড়ি দিলেন রানাঘাটের উদ্দেশে। সেই নৌকা এসে থামল কলাইঘাটায়। সেই সময়ে রামকৃষ্ণদেবকে ঘিরে ধরল স্থানীয় মানুষের একটি ভিড়। যাঁরা অধিকাংশই অর্ধনগ্ন, শীর্ণকার এবং খিদেয় নুয়ে পড়েছে তাঁদের শরীর। কয়েকদিন আগেই ওই এলাকায় দুর্ভিক্ষ হয়েছে। 
আদতে মথুরামোহন সেখানে এসেছিলেন খাজনা নিতে। সেইসঙ্গে সদ্য ভাইয়ের ছেলে বিয়োগের কারণে মনোকষ্টে থাকা রামকৃষ্ণদেবকে শোক নিবারণ করাতে খানিক অন্য পরিবেশে আনার জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষের এহেন অবস্থা দেখে চোখে জল এল ঠাকুরের। তিনি সরাসরি মথুরামোহনকে নির্দেশ দিলেন, এই এলাকার সমস্ত মানুষ মায়ের সন্তান। এদের খাজনা মকুব করতে হবে। তাই এখানকার মানুষকে অন্ন, বস্ত্র দান করতে হবে। প্রথমে অবশ্য ঠাকুরের এই বক্তব্যে রাজি হননি মথুরা মোহন। পরে বাধ্য হলেন। অতঃপর কলকাতা থেকে সমস্ত কাপড় এবং খাবার আনা হল কলাইঘাটায়। সাতদিন ধরে চলল সেই সেবাযজ্ঞ। স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব নিজেই ছিলেন সেখানে। শেষদিন তৎকালীন টাকার হিসাবে সমস্ত মানুষের হাতে চার আনা(২৫ পয়সা) দিয়ে বিদায় জানানো হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য এতদিন ধরে বহন করেছে কলাইঘাটার একটি কংক্রিটের ফলক। খুব স্বল্পকথায় সেখানে এই ইতিহাস এবং রামকৃষ্ণের উপস্থিতির কথা লেখা থাকলেও রামকৃষ্ণ মিশনের কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়নি।
সম্প্রতি রাম বাগআছড়া রামকৃষ্ণ মিশন আগ্রহ দেখিয়েছে এই এলাকায় একটি বিশেষ সেন্টার তৈরির জন্য। সম্প্রতি জায়গাটি একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন বাগআছড়া রামকৃষ্ণ সারদাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী দুর্গেশনন্দ মহারাজ। তাঁর সঙ্গে কলাইঘাটার এই ঐতিহাসিক জায়গায় সেন্টার তৈরির জন্য প্রশাসনিকস্তরের কাজকর্ম করছেন বিবেকানন্দ যুব মহামণ্ডলের ফুলিয়া শাখার সম্পাদক রঞ্জন বসাক। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনকে আবেদন জানিয়েছি কিছুটা জায়গা সেন্টার তৈরির জন্য দিতে। রামকৃষ্ণ মিশন এখানে নিজস্ব সেন্টার তৈরি করবে। প্রশাসনিকস্তরের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা জমি পেলেই রামকৃষ্ণ মিশন এখানে সেন্টারটি গড়ে তুলবে। বলাই বাহুল্য, জমিদার মথুরা মোহনকে নিয়ে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব যে সেবাযজ্ঞ করেন তা আগামী প্রজন্মের কাছে সেই সেন্টারের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তাছাড়া রানাঘাট শহরের উপকণ্ঠেও রামকৃষ্ণ মিশন তাদের সেবা কাজ করতে পারবে।
সম্পর্কিত সংবাদ