Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামকিঙ্করের শিল্পসৃষ্টির ভুল তথ্য দিচ্ছেন টোটো চালকরা

রামকিঙ্করের শিল্পসৃষ্টির ভুল তথ্য দিচ্ছেন টোটো চালকরা
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: কাঠ খোদাই করে ‘সাঁওতাল পরিবার’ মূর্তিটি তৈরি করেছিলেন রামকিঙ্কর বেজ। এই তথ্য শুনে মূর্চ্ছা যেতে পারেন যে কোনও শিল্পরসিক। অথচ, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই সব পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা দেখে কেউ হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন আবার কেউ রেগে লাল। পোস্টদাতার ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। অথচ শান্তিনিকেতন ঘুরতে এসে টোটো চালকের মুখে এমনই তথ্য শুনেছিলেন তিনি। টোটো চালক স্থানীয় বাসিন্দা, শান্তিনিকেতনের ইতিহাস সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তাই তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই ওই পোস্ট। তারপর একের পর এক আক্রমণ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। শান্তিনিকেতনে ঘুরতে এসে এই অভিজ্ঞতা কমবেশি অনেকেরই হয়েছে। সঠিক গাইডের অভাবে বহু পর্যটক ভুল তথ্য জেনে বাড়ি ফিরছেন। এতে বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনের নাম ও ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে। শান্তিনিকেতনের বাইরে কবিগুরুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের ভুল বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর জন্য উচিত, যাঁরা গাইডের কাজ করছেন তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। ‌আর এই কাজে বিশ্বভারতীকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন সকলে। কর্মশালার আয়োজন করে গাইড ও টোটো চালকদের যদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাহলে হেরিটেজ স্বীকৃত শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতীর সুনাম বাইরে আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়া ও শিক্ষা মহল।
Advertisement
কবিগুরুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন এখন রাজ্যের অন্যতম বড় পর্যটন কেন্দ্র। সংস্কৃতির পীঠস্থান বলে কথা। তাই গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত, ছয় ঋতুতেই পর্যটক ও ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের ভিড় লেগে থাকে শান্তিনিকেতনে। এখানে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত বাসভবনগুলি। এর পাশাপাশি, সঙ্গীতভবন, কলাভবন, চীনাভবনের মতো ঐতিহাসিক ভবনগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ইতিহাস বহন করে চলেছে। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসের আনাচে কানাচে রয়েছে আচার্য নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বেজের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য। এই সমস্ত বিষয়গুলি চাক্ষুষ করতে পর্যটকরা শান্তিনিকেতনে ঘুরতে পছন্দ করেন। রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো শান্তিনিকেতনেও এর জন্য রয়েছেন অনেক গাইড। তাঁরা টাকার বিনিময়ে বাড়িঘর, স্থাপত্য প্রভৃতি বিষয়গুলির ইতিহাস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন পর্যটকদের সামনে। বর্তমানে এই গাইডদের পাশাপাশি টোটো চালকরাও গাইডের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এর ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। অর্থাৎ, অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী! শান্তিনিকেতনের সম্বন্ধে না জেনে বুঝে, বিশ্বভারতী সম্পর্কে যারা অবগত নন, তাঁদের সামনে ভুল তথ্য তুলে ধরছেন। ‌এতে শান্তিনিকেতন সম্বন্ধে বাইরের জগতে ভুল বার্তা যাচ্ছে এমনটাই সকলে মনে করছেন। বিশ্বভারতীর পড়ুয়া অনুষ্কা চক্রবর্তী ও শুভ্রজিৎ মণ্ডল বলেন, অনেক গাইড ও টোটো চালক তালধ্বজের তালগাছকে দেখিয়ে বলেন রবীন্দ্রনাথ এই গাছকে দেখেই ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ কবিতাটি লিখেছিলেন। কলাবাগান ছিল বলেই নাকি বর্তমানে নাম কলাভবন। সিংহ ছিল বলেই নাম হয়েছে সিংহ সদন, এরকম বুজরুকি ও হাস্যকর তথ্য তাঁরা দর্শনার্থীদের দিচ্ছেন। এতে শান্তিনিকেতনের নাম খারাপ হচ্ছে। এই বিভ্রান্তি রুখতে গাইডদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ