নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার বুলডোজার নিয়ে রেল উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতেই উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের আহমেদকর কলোনিতে। বুলডোজার ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় এলাকার বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর আন্দোলনে যোগ দেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল সহ তৃণমূল কর্মীরাও। তুমুল বিক্ষোভের চাপে পড়ে উচ্ছেদ অভিযান থেকে পিছু হটে রেল। এলাকাবাসীর সামনে বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিশ্বনাথবাবু। তিনি বলেন, রেল জানিয়েছে বিধায়কের অনুমতি নিয়ে তারা মানুষের বাড়ি ভাঙতে এসেছে। এলাকাবাসীর ভোট নিয়ে বিজেপির বিধায়ক হয়ে এখন রেলের হয়ে দালালি করছেন স্থানীয় বিধায়ক। রেলের কাজের ঠিকাদারি করার জন্য এলাকার মানুষকে পথে বসাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, বিশ্বনাথবাবুকে তাঁর দলের লোকই মানে না। আমার অনুমতিতে রেল যদি কাজ করে তাহলে স্বীকার করুন আমার জন্যই উন্নয়নের কাজ হচ্ছে। আমরা বলেছি, রাজ্য সরকার এদের জমি দিয়ে পুনবার্সন দিক।
Advertisement
আহমেদকর কলোনি সহ দুর্গাপুরের একাধিক জায়গায় রেলের উচ্ছেদ নোটিস ঘিরে কয়েক মাস ধরেই সরগরম এলাকা। বাসিন্দাদের নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি দু’পক্ষই ময়দানে নেমে পড়েছে। এনিয়ে একাধিক বার বৈঠকও হয়েছে। এই অবস্থায় এদিন হঠাৎই রেলের বুলডোজার এসে কোনও আলোচনা ছাড়াই ঘর ভাঙতে শুরু করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বনাথবাবু বলেন, জমিটি রেলের কি না তা নিয়ে যথেষ্ট জল্পনা রয়েছে। বাম সরকারের আমলে এখানে পাট্টা দেওয়া হয়েছে। জমিটি বনদপ্তর ও ডিভিসির। দুর্গাপুর পুরসভা ও রাজ্য সরকার এখানে রাস্তা করেছে। তখন রেল কেন আমাদের বাধা দেয়নি। আমরাও উন্নয়ন চাই কিন্তু এলাকাবাসীকে পথে বসিয়ে নয়।রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় ইয়ার্ড রি-মডেলিংয়ের ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে। তার জন্যই জমি দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। আসানসোল ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



