দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বছরে ১ হাজার ২৪০টি। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে অন্তত তিনটি করে! সময়সীমা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস। মাত্র এই এক বছরের সময়কালে রেলের শুধু তিনটি জোনেই দুর্নীতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত শ’য়ে শ’য়ে অভিযোগ জমা পড়েছে ভিজিলেন্সের কাছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি পৃথক আরটিআইয়ের জবাবে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নয়াদিল্লির রেলভবনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, তিনটিমাত্র জোনেই যদি এই পরিস্থিতি হয়, তাহলে বাকিগুলিতে ঠিক কী পরিস্থিতি?
Advertisement
রেলের যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় বিশেষ কোনও নজর নেই। দীর্ঘদিন ধরেই রেলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ করে চলেছেন রেল যাত্রীদের একটি বড় অংশ। মাত্রই কয়েক সপ্তাহ আগে ‘হাই প্রোফাইল’ নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জন রেল যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত অন্তত সরকারিভাবে জমা পড়েনি। এই প্রেক্ষিতে এহেন আরটিআইয়ের জবাব সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে যে, দুর্নীতি এবং হাত পেতে ঘুষ নিতেই কি তাহলে বেশি সময় ব্যয় করছেন রেলের কর্মী, আধিকারিকদের একাংশ? তথ্য জানার অধিকার আইনের বলে যে তিনটি রেলওয়ে জোনের দুর্নীতি এবং ঘুষের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলি হল নর্দার্ন রেলওয়ে, সেন্ট্রাল রেলওয়ে এবং ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে। প্রসঙ্গত, যে নিউদিল্লি স্টেশনে চরম অব্যবস্থার জেরে পদপিষ্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, তা রেলের এই নর্দার্ন জোনেরই আওতায়! মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা জনৈক চন্দ্রশেখর গৌড়ের করা আরটিআইয়ের জবাবেই রেলের এহেন উদ্বেগজনক ছবি সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উল্লিখিত তিনটি জোনের মধ্যে দুর্নীতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত সবথেকে বেশি অভিযোগ এসেছে সেন্ট্রাল রেলওয়ের বিরুদ্ধে। এক বছরের সময়সীমায় মধ্য রেলে দুর্নীতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত মোট ৮১৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরপরেই রয়েছে ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে। এর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সংখ্যা মোট ৩২০টি। নর্দার্ন রেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে মোট ১০১টি। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই আরটিআইয়ের জবাবে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে যে, যাবতীয় অভিযোগেরই তদন্ত করছে ভিজিলেন্স। সেইমতো যথাযথ পদক্ষেপও করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উল্লিখিত তিনটি জোনের মধ্যে দুর্নীতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত সবথেকে বেশি অভিযোগ এসেছে সেন্ট্রাল রেলওয়ের বিরুদ্ধে। এক বছরের সময়সীমায় মধ্য রেলে দুর্নীতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত মোট ৮১৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরপরেই রয়েছে ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে। এর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সংখ্যা মোট ৩২০টি। নর্দার্ন রেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে মোট ১০১টি। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই আরটিআইয়ের জবাবে রেলমন্ত্রক জানিয়েছে যে, যাবতীয় অভিযোগেরই তদন্ত করছে ভিজিলেন্স। সেইমতো যথাযথ পদক্ষেপও করা হচ্ছে।



