Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের ভুল সিদ্ধান্তেই মিলছে না যাত্রী, মুরারই ও রাজগ্রামে ট্রেন স্টপেজের দাবি

রেলের ভুল সিদ্ধান্তেই মিলছে না যাত্রী, মুরারই ও রাজগ্রামে ট্রেন স্টপেজের দাবি
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাধের সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে যাত্রী মিলছে না। লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেলকে। তবে রুট নয়, রেলের সিদ্ধান্তের ভুলেই যাত্রী পাচ্ছে না বলে অভিযোগ মুরারই ও রাজগ্রাম স্টেশন এলাকার যাত্রীদের। তাঁরা বলেন, সাহেবগঞ্জ থেকে হাওড়াগামী বেশ কিছু ট্রেন রয়েছে। সেখানে রাজগ্রাম থেকে হাওড়া যাওয়ার জন্য একটি মাত্র ট্রেন। অন্যদিকে মুরারইও উপেক্ষিত। তাঁদের বাদুড় ঝোলা হয়ে হাওড়া যেতে হয়। এই অবস্থায় রাজগ্রাম বা মুরারই স্টেশনে সাহেবগঞ্জ হাওড়া ইন্টারসিটির স্টপেজ দিলে যাত্রী ভরানোর দায়িত্ব তাঁরা নিতে রাজি। তাঁরা বলেন, এটা যে কথার কথা নয়, তা পরীক্ষামূলক চালিয়ে দেখে নিক রেল। খুব শীঘ্রই ট্রেনটির স্টপেজের দাবিতে রেলকে চিঠি দিতে চলেছেন এলাকার মানুষ। 
Advertisement
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সংযোগ বাড়াতে গত অক্টোবর মাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাহেবগঞ্জ হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের যাত্রার সূচনা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সাহেবগঞ্জ এবং হাওড়ার মধ্যে ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব মাত্র সাত ঘণ্টায় অতিক্রম করছে ট্রেনটি। সাহেবগঞ্জ ও হাওড়ার মধ্যে আটটি স্টেশনে স্টপেজ রয়েছে ট্রেনটির। তার মধ্যে পাকুড় ছাড়ার পর পরবর্তী স্টপেজ রয়েছে রামপুরহাটে। এর মাঝে নলহাটি, মুরারই ও রাজগ্রাম স্টেশন এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই রেলের কাছে অবহেলিত। রেল পরিষেবা বৃদ্ধির দাবিতে রেল অবরোধের পাশাপাশি নানা আন্দোলনও করেছেন তাঁরা। 
রাজগ্রামের বাসিন্দা অচিন্ত্য ঘোষ বলেন, এই এলাকার মানুষের হাওড়া যাওয়ার ভরসা বলতে মালদা-হাওড়া ইন্টারসিটি। সেটি পাকুড় স্টেশনে ঢোকার পরই ভর্তি হয়ে যায়। এখানে ঠেলাঠেলি করে চাপতে গিয়ে প্রায়ই যাত্রীরা পড়ে যাচ্ছেন। এদিকে তার কিছুক্ষণ পরেই রাজগ্রাম স্টেশন অতিক্রম করে সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি। অথচ সেই ট্রেন ফাঁক। তাই এই ট্রেনটির স্টপেজ দেওয়া হলে যাত্রীর সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি লাভের মুখ দেখবে রেল। পুরো বিষয়টি তুলে ধরে রেলকে চিঠি দিচ্ছি আমরা। 
অন্যদিকে মুরারই স্টেশনের উপর নির্ভরশীল এলাকার মানুষ সহ লাগোয়া ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদের মানুষ। সকালে কলকাতা বা হাওড়া যাওয়ার ট্রেন বলতে ডাউন মালদা–হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস। সেটি সকাল ৬টা বেজে ১৪ মিনিটে মুরারই স্টেশনে ঢোকে। কিন্তু এখানে ভিড় ট্রেনে হুড়মুড়িয়ে ওঠার ছবি দেখা যায় নিত্যদিন। দিন কয়েক আগে ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা ফসকে কার্যত তলায় পড়ে যাচ্ছিলেন মেমারি আল-আমিন মিশনের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ঝাড়খণ্ডের খাতরা গ্রামের বাসিন্দা বেনজির আফরিন। অন্যান্য যাত্রীরা তাঁকে কোনওরকমে টেনে প্ল্যাটফর্মে তোলেন। মুরারই নিত্যযাত্রী সঙ্ঘের পক্ষে জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, আপ ও ডাউন সাহেবগঞ্জ হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস লোকসানে চলছে। প্রতিদিন ট্রেনটিকে ফাঁকা যেতে দেখছি। যদি মুরারই স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজ দেয়, তাহলে আপ ও ডাউন উভয়ক্ষেত্রে গাড়ি ভরানোর দায়িত্ব নেবেন এলাকার যাত্রীরা। রেল চাইলে কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখতে পারে। কারণ, ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মুরারইয়ের ১১ কিমির মধ্যেই ঝাড়খণ্ড। অন্য‌঩দিকে, ১০ কিমির মধ্যে মুর্শিদাবাদ। রেলের এই সিদ্ধান্ত অবাস্তব ও অবৈজ্ঞানিক। সেই কারণে এই ট্রেন যাত্রী পাচ্ছে না।
যদিও পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, এটা ভালো প্রস্তাব। স্থানীয় জনগণ যদি আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে ওখানে ট্রেনটির স্টপেজ দেওয়া সম্ভব কি না, সেটা বিবেচনা করা হবে। তবে স্টপেজ যত বাড়বে, ততই যাত্রার সময়ও বাড়বে। 
 
সম্পর্কিত সংবাদ