Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল, সেইলের রিটায়ার্ড বেনিফিট কোটিরও বেশি অবসরের মুখেই বধূ নির্যাতনে অভিযুক্ত কর্মীরা 

রেল, সেইলের রিটায়ার্ড বেনিফিট কোটিরও বেশি অবসরের মুখেই বধূ নির্যাতনে অভিযুক্ত কর্মীরা 
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়েক মাস পরেই ইসিএলের থেকে অবসর নেবেন রবিন বিশ্বাস (নাম পরিবর্তিত)। প্রবীণত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মামলায় জেরবার তিনি। এই বয়সে স্ত্রী ঠুকে দিয়েছেন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের মামলা। দীর্ঘদিন ধরেই স্ত্রী থাকেন বাপের বাড়িতে। জীবনের শেষ কোঠায় এসে মামলা ঠুকে স্বামীর অবসরকালীন টাকার ভাগ  চান তিনি। 
Advertisement
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই ঘটনা এখন রীতিমতো নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতি তিন মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে যে রিপোর্ট পাঠাতে হয়, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে ৬০ থেকে ৭০টি গার্হস্থ্য হিংসা বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের মামলা হচ্ছে, তার মধ্যে কমপক্ষে দশ শতাংশ এই ধরনের মামলা। যাঁরা অবসরের দোরগোড়ায় উপস্থিত, তাঁদেরই প্রিয়জনরা আদালতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যা নিয়ে চাকরির শেষ পর্বে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মী ও আধিকারিকরা। 
আসানসোল-দুর্গাপুরের মতো মেগা সিটি নিয়ে পড়ে ওঠা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় উচ্চ বেতনের চাকুরিজীবীর ছড়াছড়ি। ইসিএলের বেশিরভাগ কর্মীর বেতনই এক লক্ষ টাকার বেশি। অবসর নেওয়ার সময়ে অধিকাংশ কর্মী এক কোটির টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা পান। আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব পিছিয়ে থাকেন না সেইলের অধীনে থাকা ডিএসপি, ইস্কো, এএসপির শ্রমিক, কর্মী, আধিকারিকরা। রেলের কর্মী, আধিকারিকদেরও অবসরকালীন সুবিধা যথেষ্ট। অবসর নিয়ে মোটা টাকায় নিশ্চিন্ত জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখা বহু পুরুষেরই স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে স্ত্রীদের করা মামলার জেরে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, স্বামীর বিরুদ্ধে এত বছর মামলা না করে ঠিক অবসরের সময়ে কেন গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলছেন? তদন্ত করা সদস্যদের অনেকেরই মতে, স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বহু ক্ষেত্রে মেনটেনেন্স বাবদ স্বামীর কাছে টাকা নেওয়ার জন্যই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে। কেউ জানাচ্ছে, স্বামীর অত্যাচারে বাপের বাড়িতে এতদিন আছি। কেউ বলছেন একাই থাকি, লোকের বাড়িতে রান্নার কাজ করে খাই। আবার অনেকক্ষেত্রে উঠে আসছে স্বামীর বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কের গল্প। স্ত্রী ভয় পাচ্ছেন অবৈধ ‘সতীন’ স্বামীকে বুঝিয়ে সব টাকা হাতিয়ে নিতে পারেন। তাই মামলা ঠুকে নিজের বার্ধক্য জীবন সুরক্ষিত করতে চাইছেন তাঁরা। 
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, বধূ নির্যাতন মামলা ফ্যামিলি কোর্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেখানে অভিযোগকারী কোনও উকিলের সাহায্য ছাড়াই নিজের হয়ে সওয়াল করতে পারবেন। এই ঘটনার পর থেকেই বধূ নির্যাতনের জায়গায় গার্হস্থ্য হিংসার মামলা বেশি হতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, আইনজীবীদের একাংশই এই পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে তাদের অধীনে থাকেন মামলাকারী। 
জানা গিয়েছে, গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ ওঠা পরিবারগুলির সন্তানদের ভবিষ্যত সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়ে উঠছে। এক জন স্কুল শিক্ষিকা বেসরকারি সংস্থায় কাজ করা স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনেছেন। তাঁদের সন্তানকে কে রাখবে তা নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। মা বলছেন, সন্তান দেখুক বাবা। বাবার দাবি, মা ছাড়া সন্তানকে রাখা অসম্ভব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ