নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া-কোটশিলা রেলপথে দ্বিতীয় লাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছে। তারজন্য রেলের ‘গর্ভে’ চলে গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। ভোটের আগে এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ। কিন্তু, ভোট মিটতেই দেখা নেই তাঁর। যাঁদের ভোটে জিতে এলেন, সেই জনতা জনার্দনই আজ উপেক্ষিত সাংসদের কাছে। এরই প্রতিবাদে রবিবার পথ অবরোধে শামিল হল পুরুলিয়া শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপল্লি, রঘুবরপল্লি, চণ্ডীতলা লেন এবং কর্পূরবাগান এলাকার বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই দ্বিতীয় লাইন পাতার কাজ শুরু করেছে রেল। এর ফলে অন্তত ২০হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
Advertisement
বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, আগে কিছুটা দূরে সুফলপল্লিতে প্রহরীবিহীন লেভেল ক্রসিং ছিল। তখনই সেই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত হচ্ছিল। কিন্তু, ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। বিনিময়ে রেল লাইনের পাশ দিয়ে কাঁচা রাস্তা তৈরি করে দেয় রেল। সেই রাস্তা দিয়ে গোশালা হয়ে ঘুরে সুফলপল্লি আসতে হতো। কিন্তু, রেলের দ্বিতীয় লাইনের জন্য সেই রাস্তার বর্তমানে কোনও অস্তিত্ব নেই। তাতেই বাসিন্দারা কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছেন। সেই কারণেই বাসিন্দারা এদিন পথ অবরোধে নামতে বাধ্য হন। রবিবার রেল লাইনের ধারে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারপর দেশবন্ধু রোডের জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে অবরোধ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিস বাহিনী। পুলিসের আশ্বাসে এদিনের মতো আন্দোলন প্রত্যাহার করেন বাসিন্দারা। ২১নম্বর ওয়ার্ডের ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই মুহূর্তে তাঁরা কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে দিন কাটাচ্ছেন। ওই এলাকার বাসিন্দা তথা পেশায় শিক্ষক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ভেঙে দিয়ে রেলের উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। গোশালা এবং রাঘবপুরে দু’টি আন্ডারপাস হচ্ছে। কিন্তু, ওই আন্ডারপাস পর্যন্ত পৌঁছনোর কোনও রাস্তা নেই। তাহলে আন্ডারপাসগুলি কী কাজে ব্যবহৃত হবে? চণ্ডীতলা কলোনির বাসিন্দা সৈকত ভট্টাচার্য বলেন, যেন মনে হচ্ছে কোনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বসবাস করছি। এভাবেই কি বাঁচব? কোনও রোগী অসুস্থ হলে এলাকায় কোনও অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারছে না। পুরসভার পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। রাস্তা না থাকায় প্রবল কষ্ট করে ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বলেন, তাঁরা এই সমস্যার সমাধান চেয়ে রেলের আধিকারিকদের বহু চিঠি পাঠিয়েছেন। জানিয়েছেন স্থানীয় সাংসদকেও। কিন্তু, কেউই কোনও ব্যবস্থা নেননি। এনিয়ে সংসদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি নিয়ে রেলের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।



