Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেল কলোনিতে উচ্ছেদের নোটিস, ভিটেহারা হওয়ার আতঙ্কে বহু পরিবারের

রেল কলোনিতে উচ্ছেদের নোটিস, ভিটেহারা হওয়ার আতঙ্কে বহু পরিবারের
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: আবার ভগবানগোলার রেল কলোনিতে উচ্ছেদ নোটিস সাঁটাল রেল। এক সপ্তাহের মধ্যে রেলের  জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য ভাঙনপাড়া, বীরেন্দ্র কলোনি এবং স্বপনগড়ে রেল কলোনির বেশ কয়েকটি বাড়ি, দোকানের দেওয়াল, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে নোটিস সাঁটানো হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে জবরদখল করে রাখা রেলের জায়গা ফাঁকা করতে হবে। অন্যথায় রেলের তরফে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে। এই নোটিস সাঁটানোর পরেই মাথার উপর ছাদ হারানোর আতঙ্কে রাতের ঘুম উবেছে রেল কলোনির দুঃস্থ পরিবারগুলির। উচ্ছেদ রুখতে রাজনৈতিক নেতা থেকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে ছুটছেন রেল কলোনির অসহায় মানুষগুলি। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন দিতে হবে। অন্যথায় তাঁরা কোথাও যাবেন না।
Advertisement
ভগবানগোলার স্টেশনমাস্টার অমিতকুমার শৈলেশ বলেন, রেলের জায়গা যারা জবরদখল করে আছে তাদের সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। 
ভগবানগোলা-১ বিডিও নাজির হোসেন বলেন, উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে রেল কলোনির বেশ কয়েকজন মানুষ এসেছিলেন। বিষয়টি তাঁদের লিখিতভাবে দেওয়ার জন্য বলেছি। তারপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। 
উল্লেখ, গত সেপ্টেম্বর মাসে উচ্ছেদ নোটিস দেয় রেল। শাসক দল,  স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এবং সর্বস্তরের বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে রেল উচ্ছেদ কর্মসূচি স্থগিত রাখে। আবার দু’মাস না কাটতেই রেলের উচ্ছেদ নোটিসে দিশেহারা রেল কলোনির বাসিন্দারা। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বপনগড় থেকে ভগবানগোলা স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত রেললাইনের দু’পাশে কয়েক দশক ধরে পাঁচ শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। বেশিরভাগ পরিবার ২০০০ সালের বন্যা ও নদী ভাঙনে সর্বস্বান্ত ভগবানগোলা-২ ব্লকের আখরিগঞ্জের বাসিন্দা। বেশিরভাগ পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। জিতেন দাস দু’দশকের বেশি সময় ধরে ভাঙনপাড়া রেল কলোনিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে এখানে এসেছিলাম। কোনওরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে ছেলেপুলে নিয়ে রয়েছি। জায়গা কিনে অন্যত্র ঘর করার আর্থিক সামর্থ্য নেই। রেল আমাদের অন্তত মাথা গোঁজার জায়গা দিক। তা না হলে আমরা কোথাও যাব না। 
শ্বেতবরণী মণ্ডল ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বীরেন্দ্র কলোনিতে বাস করছেন। তিনি বলেন, স্বামী সন্তান কেউ নেই। অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে দু’বেলা অন্ন জোটে। রেল আমার বাড়িতে উচ্ছেদের নোটিস সাঁটিয়েছিল। কিন্তু, আমি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছি। অন্য জায়গায় মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করে না দিলে আমি এই জায়গা থেকে নড়ব না। 
বিয়ের পর স্বামীর হাত ধরে ২৫ বছর আগে রেল কলোনিতে এসে উঠেছিলেন সুন্দরী বেওয়া। তিনি বলেন, দু’বেলা ঠিকমতো খাওয়া জোটে না। জায়গা কিনে ঘর করা বা ভাড়া থাকার সামর্থ্য নেই। রেল আমাদের পুনর্বাসন দিলে তবেই জায়গা ছাড়ব। 
ভগবানগোলা-রানিতলা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক আজমল হক বলেন, গত কয়েক দশক ধরে সহায় সম্বলহীন মানুষগুলি ওখানে রয়েছে। এখন উচ্ছেদ করলে ওরা যাবে কোথায়? রেল ওদের কথা ভাবুক।
সম্পর্কিত সংবাদ