Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের স্কলারশিপ পেয়ে কৃষকের ছেলে আজ ট্রেনচালক, রাজমিস্ত্রির মেয়ে নার্স

রাজ্যের স্কলারশিপ পেয়ে কৃষকের ছেলে আজ ট্রেনচালক, রাজমিস্ত্রির মেয়ে নার্স
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: রাজ্যের দেওয়া সংখ্যালঘু স্কলারশিপে পড়াশোনা করে কৃষকের ছেলে আজ ট্রেনচালক। শুধু তাই নয়, সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের দেওয়া ঋণের টাকায় কোর্স শেষ করে রাজমিস্ত্রির মেয়ে এখন ভিনরাজ্যে নামী হাসপাতালের নার্স। সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েদের উন্নয়নে নজির গড়ছে জলপাইগুড়ি জেলা। সবমিলিয়ে এই জেলায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে ‘ঐক্যশ্রী’ প্রকল্পে দেওয়া হচ্ছে স্কলারশিপ। পড়াশোনা এগিয়ে যেতে শুধু ছাত্রছাত্রীদের ভাতা দেওয়াই নয়, সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলারা যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন, সেজন্য দেওয়া হচ্ছে ঋণ। 
Advertisement
২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে প্রায় ১৫ হাজার সংখ্যালঘু মহিলাকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা। জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, সংখ্যালঘুদের জন্য রাজ্য সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে, তাঁরা যাতে সেগুলি পান, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্কলারশিপের কাজে যাতে কোনওভাবেই ঢিলেমি না হয়, তা দেখতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। 
জলপাইগুড়ি জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক অনুরাধা লামা বলেন, আমাদের দপ্তর থেকে স্কলারশিপ পেয়ে পড়াশোনা করে যাঁরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন, তাঁদের নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে ওইসব ছেলেমেয়েদের ‘উত্তরণের’ গল্প ‘মলাটবন্দি’ করারও ভাবনা রয়েছে। যাতে আরও বেশি ছেলেমেয়ে পড়াশোনায় উৎসাহিত হয়। 
কৃষক নাসিরুদ্দিনের মণ্ডলের ছেলে মোনায়েম পারভেজ। আদি বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। মোনায়েম জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পান। কারিগরি বিভাগের পড়ুয়াদের জন্য রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের যে স্কলারশিপ রয়েছে, তা দেওয়া হয় 
মোনায়েমকে। ওই ভাতা তাঁর উচ্চশিক্ষা এগিয়ে নিতে যেতে সাহায্য করে। জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে এম টেক পাশ করেন মোনায়েম। পরে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলটের চাকরি পেয়ে 
যান। 
জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিক বলেন, মোনায়েমের উচ্চশিক্ষায় যাতে কোনও বাধা না পড়ে, সেজন্য আমরা তাঁকে স্কলারশিপ দিয়েছি। এখন তিনি ট্রেনচালক। অসমের লামডিংয়ে কর্মরত। এটা আমাদের কাছে খুবই গর্বের। 
অন্যদিকে, ক্রান্তির ধানতলায় বাড়ি সুহানা ইয়াসমিনের। বাবা রাজমিস্ত্রি। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর নার্সিং পড়ার শখ হয় সুহানার। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে পারেনি পরিবার। ঠিক তখনই ‘ত্রাতা’ হিসেবে পাশে দাঁড়ায় জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর। অভাবী ওই ছাত্রী যাতে নার্সিংয়ে ভর্তি হতে পারেন, সেজন্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগমের তরফে তাঁকে ঋণ দেওয়া হয় ৪৯ হাজার টাকা। জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক বলেন, ২০২২ সালে কোর্স শেষ করে সুহানা চাকরিও পেয়ে গিয়েছেন। তিনি এখন হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালের নার্স। 
সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে খবর, এডুকেশন লোন তো দেওয়া হচ্ছেই, সেই সঙ্গে যদি কোনও সংখ্যালঘু ছোটখাট ব্যবসা বা দোকান করতে চান, তাঁদের টার্ম লোন দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে যদি কোনও গ্যারান্টার না থাকে, তাহলে আবেদনকারী ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। আর গ্যারান্টার থাকলে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর।   
সম্পর্কিত সংবাদ