সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: ওরা কানেও শুনতে পায় না। কথাও বলতে পারে না। তবে ইশারায় হয়তো মনের ভাব আদান প্রদান করে সবসময়। অনেকদিন একই চত্বরে থাকার সুবাদে সম্পর্ক অনেকটা ভাইবোনের মতো হয়ে ওঠে। সেটাই দেখা গেল রবিবার, ভাতৃদ্বিতীয়ায়। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে দিদি বোনেরা মঙ্গল কামনা করল। মূক ও বধির শিশুদের জন্য রাজ্যের একমাত্র সরকারি হোম সূর্যোদয় চিলড্রেন হোমে এবছর পালিত হলো ভাতৃদ্বিতীয়া উৎসব। যেখানে ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা যম দুয়ারে পড়ল কাটা’ এই শব্দগুলি উচ্চারণ হয় না ঠিকই। তবে মনের অভিব্যক্তি ও অনুভূতির মাধ্যমে ভাইফোঁটা উৎসব পালন করল কচিকাচা থেকে কিশোর-কিশোরীরা।
এদিন ভাইফোঁটাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হয় বালিকা আবাসনে। সকাল থেকেই আবাসনের মেয়েরা ফুল জোগাড় করে। নিজের হাতে চন্দন বাটে। এরপর সেজেগুজে চলে যায় বালক আবাসনে। সেখানে যে ভাইয়েরা অপেক্ষা করছে ফোটা নেওয়ার জন্য। তাদের কপালে ফোঁটা দিয়ে খুশি বোনেরা।
এই ভাতৃদ্বিতীয়া শুধু উৎসব নয়, মানবতার বন্ধন বলে মনে করে হোম কর্তৃপক্ষ। কারণ, এই হোমে যারা থাকে তাদের কোনও জাতি নেই, ধর্ম নেই। প্রত্যেকেই হারিয়ে যাওয়া শিশু এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। এই হোমে ছেলেদের কপালে মেয়েরা ফোঁটা দেয় এবং ভাইবোনের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে।
বর্তমানে এই হোমে ১২ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে। বিশেষ এইদিনে ভাইফোঁটার পর ভোজেরও ব্যবস্থা থাকে।
হোমের অধ্যক্ষ পার্থসারথী দাস বলেন, এদিনটির জন্য আবাসিকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকে। বালিকা আবাসনের মেয়েরা আগেই জানতে চায়, ভাইফোঁটা কবে। সেইমতো তারা প্রস্তুতিও শুরু করে। আমরা হোমের সবাই মিলে তাদের এইদিনটাকে স্পেশাল করে তোলার চেষ্টা করি।
হোমের অধ্যক্ষ জানান, ওরা ফোঁটা দেওয়ার সময় কথা বলতে পারে না ঠিকই। কিন্তু ইশারায় ওদের ভাষার মাধ্যমে ভাইবোনের সম্পর্ক বুঝিয়ে দেয়।
হোম কর্তৃপক্ষের এই আয়োজনের পাশাপাশি মূক ও বধির আবাসিকদের ফোঁটা দেয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। সংগঠনটির সদস্য কাকলি সাহা বলেন, বাড়িতে আমরা ভাইফোঁটা পালন করি। কিন্তু এখানে এসে আলাদা রকম ভালোলাগা কাজ করে। আজ আমরাও ওদের ফোঁটা দিলাম। - নিজস্ব চিত্র।