নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু ‘তরুণের স্বপ্ন’ নয়, রাজ্য সরকারের অন্যান্য প্রকল্পের টাকাও হ্যাকারদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া থেকে ট্যাবের টাকা প্রতারকরা তুলেছে। ওই জেলাগুলিতেই বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। যাদের নথি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, তাদের পুলিস নোটিশ করে ডেকে পাঠিয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধুর মতো বিভিন্ন প্রকল্পের টাকাও প্রতারকরা ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে হাতিয়ে থাকতে পারে। অ্যাকাউন্টগুলি ইতিমধ্যে ‘সিজ’ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকরা টাকা তুলে নিয়েছে। কয়েকটি অ্যাকাউন্টে অল্প কিছু টাকা পড়েছিল। পুলিস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষর কাছে থেকে ‘স্টেটমেন্ট’ নিয়ে জানতে পেরেছে শুধু ট্যাবের টাকা নয়, বিভিন্ন সময় ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা পড়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। সাইবার অপরাধীরা টাকার বিনিময়ে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে প্রতারণা করে। অনেক সময় আবার অ্যাকাউন্টের মালিকরা কিছু জানতেই পারে না। তাদের নথি হাতিয়ে তারা অ্যাকাউন্ট খুলে নেয়। তারা এই কায়দায় বহুদিন ধরেই প্রতারণা চালাচ্ছে। তবে সরকারি প্রকল্পের টাকা হাতানোর তথ্য আগে সামনে আসেনি। একসঙ্গে বহু পড়ুয়ার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরই বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যান্য প্রকল্পগুলিতে মাঝেমধ্যেই অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে না বলে অভিযোগ। তাদের টাকা সাইবার অপরাধীদের অ্যাকাউন্টে যেতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছে। শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত হওয়া পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে সরকার সামনের সপ্তাহের প্রথম দিকেই টাকা পাঠিয়ে দেবে। শিক্ষাদপ্তর শনিবারের মধ্যে প্রতারিত পড়ুয়াদের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই মতো প্রতিটি স্কুল তালিকা তৈরি করে টাকা পাঠাতে শুরু করেছে। বর্ধমানের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিন্টু রায় বলেন, তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমাদের স্কুলে ২৮জন পড়ুয়ার টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। পুলিস এবং শিক্ষাদপ্তরকে সহযোগিতা করা হয়েছে। কোনও ছাত্রর অ্যাকাউন্ট নম্বর পোর্টালে ভুল আপলোড করা হয়নি। কীভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা গেল বোঝা যাচ্ছে না।



