Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশে মোগলমারি, শরশঙ্কা দিঘিও তালিকায়, খুশি এলাকাবাসী

রাজ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশে মোগলমারি, শরশঙ্কা দিঘিও তালিকায়, খুশি এলাকাবাসী
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, বেলদা: কেন্দ্রীয় বাজেটে বঞ্চিত। তবে, মোগলমারি বৌদ্ধ মহাবিহারের সামগ্রিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসনকে অর্থ মঞ্জুরের আশ্বাস দিয়েছে নবান্ন। বাজেটে আলাদা করে মোগলমারি নিয়ে কোনও ঘোষণা না করা হলেও সার্বিকভাবে পর্যটনশিল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। মোগলমারিও সেই তালিকায় থাকবে বলে একপ্রকার নিশ্চিত এলাকার বিধায়ক থেকে শুরু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। মোগলমারির পাশাপাশি দাঁতনের ইতিহাস প্রসিদ্ধ শরশঙ্কা দিঘীর উন্নয়নেও মিলবে অর্থ। সবমিলিয়ে খুশি দাঁতনবাসী। 
Advertisement
দাঁতনের এই দু’টি স্থানই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে, এখানে রাতে থাকার জ‌ন্য হোমস্টে, মিউজিয়াম, সৌন্দর্যায়ন করা হলে পর্যটকরা সপরিবারে থাকারও সুবিধা পাবেন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে এলাকার অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। বিষয়টি নিয়ে দাঁতনের বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান বলেন, মোগলমারি ও শরশঙ্কা এই দুটি পর্যটন কেন্দ্রের জন্য আমরা প্রকল্প রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম। তা গৃহীত হয়েছে। আশা করছি, প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর হবে।  আমাদের দাঁতনবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে জন্য ধন্যবাদ জানাই।’
বিভিন্ন গবেষণা পত্র থেকে জানা যায়, মোগলমারি বৌদ্ধ মহাবিহার প্রায় নালন্দার সমসাময়িক। এখানে হিউয়েন সাঙও এসেছিলেন। ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর নানা নমুনা মিলেছে এখানে। এই স্থানটিকে সখি সেনা ঢিবি হিসেবেই জানতেন এলাকার মানুষ। ১৯৯৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অশোক দত্ত সুবর্ণরেখার তীরবর্তী এই এলাকায় প্রাচীন বাংলায় নদী বাণিজ্য সংক্রান্ত পুরাতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করতে এসে দাঁতনের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সঙ্গে পরিচয় হয়। তখন এটি ‘সখি সেনা ঢিপি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৩-০৪ সালে তিনি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মোগলমারিতে আসেন এবং খনন কাজ শুরু করেন। খনন শুরুর পর থেকেই উঠে আসে স্বর্ণমুদ্রা সহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানকার শিলালিপি থেকে এই বৌদ্ধ বিহারের নামকরণ পাওয়া যায়। ২০১২-১৩ সালে শেষ খননকার্য হয়েছিল। মোগলমারির বাসিন্দা তথা রাজ্যের বিশেষ সচিব অশোক দাস বলেন, অর্থ মঞ্জুরের সম্ভাবনা দেখে আমরা খুব খুশি। আমরা চাই আরও খনন হোক। এই জায়গাটিকে নিয়ে ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে উঠুক। তৈরি হোক মিউজিয়াম। জেলার কেশিয়াড়ির কুড়ুমবেড়া ফোর্ট এবং মেদিনীপুর সদর ব্লকের পাথরা জাতীয় সৌধের মর্যাদা পেয়েছে। মোগলমারির বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতণু প্রধানের ক্ষোভ, মোগলমারি কেন জাতীয় সৌধের মর্যাদা পাবে না। তা পেলে কেন্দ্রীয় বাজেট থেকেও অর্থ বরাদ্দ হতো। এটির উন্নয়ন ঘটলে আরও বেশি বিদেশি পর্যটকও আসতেন। তবে, রাজ্য বাজেটে বরাদ্দ মেলায় অবশ্য তাঁরা খুশি। 
এবারের বাজেট থেকে মেলা অর্থে মোগলমারিতে মিউজিয়াম ও গেস্ট হাউস তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নমূক কিছু কাজ হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আর শরশঙ্কাতে চারটি কটেজ নির্মাণের পাশাপাশি দিঘির চারপাশ সুন্দর করে সাজানো, জলকে কচুরিপানা মুক্ত করাও হবে। শরশঙ্কা দিঘিটি প্রায় দেড়শ একরজুড়ে রয়েছে। এত বড় দিঘি সহজে মেলা ভার। এই দিঘি  খননের সঙ্গে নাম জড়িয়ে শশাঙ্কের। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটনদপ্তর রাজ্য বাজেটের বরাদ্দ থেকে মোগলমারিকে প্রায় দেড় কোটি এবং শরশঙ্কার উন্নয়নে ১ কোটি টাকা দেবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে। জেলাশাসক খুরশেদ আলি কাদেরি বলেন, রাজ্য বাজেটে প্রকল্প ধরে বরাদ্দ হয় না। পর্যটনের জন্য বরাদ্দ হয়। মোগলমারি ও শরশঙ্কা দিঘির জন্য ডিটেইল প্রজেক্ট রিপোর্ট জমা দেওয়া ছিল। সেই খাতে পর্যটন দফতর টাকা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ