Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্য কমিটির ডাকা বিধায়কের স্মরণসভা নিয়ে আপত্তি মমতার

রাজ্য কমিটির ডাকা বিধায়কের স্মরণসভা নিয়ে আপত্তি মমতার
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপে বাতিল হল  পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির ব্যানারে ডাকা প্রয়াত কালীগঞ্জের বিধায়কের স্মরণসভা। জেলার সংগঠনকে বাদ দিয়েই তৃণমূলের একাংশের ইন্ধনে সেই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। শুক্রবার বিকেলে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্রের তরফ থেকে দলীয়ভাবে স্মরণসভা ডাকা হয়েছে। শনিবার সকালের দিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির ব্যানারে ডাকা স্মরণসভা স্থগিত করা হয়। তারপর বেলার দিকে দলের একাংশের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ব্যানারের পরিবর্তে বিধায়কের পরিবারের আহ্বানেই স্মরণসভা করা হবে। মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘কালীগঞ্জের বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দলের তরফ থেকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।’ সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন কালীগঞ্জ বিধানসভার বর্ষীয়ান বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদ। কালীগঞ্জ বিধানসভা থেকেই দু’বারের বিধায়ক তিনি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ঠিক আগে থেকে দলের সংগঠনের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। লোকসভা নির্বাচনেও বিধায়ক ও তাঁর গোষ্ঠীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল দলের অন্দরেই। সাংসদ এবং বিধায়কের বিবাদও সামনে আসে। তবে অতীতের তিক্ততা ভুলে, দলের তরফ থেকে প্রয়াত বিধায়কের জন্য স্মরণসভার ডাক দেন মহুয়া। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জের পলাশির মীরাবাজার ঘোষপাড়া মাঠে সেই স্মরণসভার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু দেখা যায়, সেই ঘোষণার আগেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির তরফে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের আহ্বানে স্মরণসভা ডাকা হয়েছে।‌ ব্যানারে বলা হয়েছে, আজ রবিবার পলাশি মীরাবাজার সার্কাস ময়দানে স্মরণসভা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের কমিটির ব্যানারে ডাকা হলেও বকলমে বিধায়ক গোষ্ঠীর লোকজনই সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব ছিলেন। সেইমতো জোর প্রস্তুতিও শুরু হয়। জেলার অন্যান্য বিধানসভার লোকজনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের রাজ্য নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের কথাতেই সেই স্মরণসভা করা হচ্ছিল। জেলা সংগঠনের সঙ্গে কথা না বলেই রাজ্য নেতার এই হস্তক্ষেপ ভালোভাবে নেননি অনেকেই। বিধায়কের স্মরণসভা নিয়ে জলঘোলার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছতে দেরি হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা সংগঠনকে ব্রাত্য রেখে রাজ্য কমিটির ব্যানারে ডাকা অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী। কারণ দলের নাম ‘ভাঙিয়ে’ বিধায়কের দু’টি স্মরণসভা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই নেতিবাচক বার্তা পৌঁছতে পারে। তাই তড়িঘড়ি হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 
Advertisement
এ ব্যাপারে শনিবার সকালে উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলেই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল।‌ কিন্তু সেই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। দুটো অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য কলকাতা থেকে আমাকে বলা হয় যে একটি বন্ধ করে দিতে।’ পরবর্তীতে বেলার দিকে তিনি জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির ব্যানারে স্মরণসভা করা হচ্ছে না। বিধায়কের পরিবারের তরফ থেকে তা ডাকা হচ্ছে। তাই আমি সেই স্মরণসভায় যাচ্ছি‌।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ