Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্য বাজেটে টাকা বরাদ্দের আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছিল সেচদপ্তর

রাজ্য বাজেটে টাকা বরাদ্দের আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছিল সেচদপ্তর
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য যে এবার বাজেটে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা নিয়ে সেচদপ্তরের কাছে আগে থেকেই পূর্ণ ইঙ্গিত ছিল। তাই বাজেটে টাকা বরাদ্দের আগে তথা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে থেকেই সেচদপ্তর অনেক কাজ শুরু করে দেয়। জেলার সেচ ও জলপথ দপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, রাজ্য সেচদপ্তরের  নির্দেশেই আমরা বেশ কিছু কাজ আগেভাগেই শুরু করে দিয়েছি। সেই কাজ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানেরই অঙ্গ। নদীর তলদেশ সংস্কার করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নদীর পাশের মাটি পরীক্ষা করে তোলার প্রক্রিয়া চলছে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
Advertisement
সেচদপ্তর সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে নদীর পাড় বাঁধানো এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল মাটি পরীক্ষা করে দেখছেন, সেই মাটি প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত কি না। পাশাপাশি, নদী সংলগ্ন এলাকায় ভূমি পুনর্বাসন নিয়েও প্রশাসনের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এখনও হয়নি। তার আগেই সেচদপ্তরের এই উদ্যোগ ঘাটাল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। কারণ বর্ষার সময় এখানে জল জমে থাকার সমস্যা প্রকট হয়। এই কাজ শুরু হওয়ার ফলে কিছুটা সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী খননের পাশাপাশি জল নিকাশির ব্যবস্থা উন্নত করার কাজও পরবর্তী ধাপে শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার আগে সেচদপ্তরও কিছু কিছু কাজ শুরু করে দিয়েছে। তাই এই মহকুমার বাসিন্দারা আশাবাদী, প্রশাসন দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ সম্পন্ন করবে। ঘাটাল শহরের বাসিন্দা এক শিক্ষক প্রতাপ মাইতি, চিকিৎসক অভিজিৎ রায় প্রমুখ বলেন, সরকারি ঘোষণার আগেই কাজ শুরু হওয়ায় আমরা সুনিশ্চিত ছিলাম এবারের উদ্যোগ কেবল প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবে রূপ পাবে। তবে বাজেটে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক উঠছে। কেউ কেউ অনেকটা হতাশও। আরও বেশি টাকা বরাদ্দ হবে বলে ঘাটালের মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া বলেন, হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিষয়টি হাতে নিয়েছেন, কাজটি শেষ না করে তিনি থামবেন না।এদিকে বাজেটে টাকা বরাদ্দের পরই ঘাটাল মহকুমার বানভাসি এলাকা এখন উৎসব মুখর। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ওই কমিটির সম্পাদক নারায়ণ নায়েকের দাবি, তাঁদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ