নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অগ্রহায়ণ মাস মানেই বিয়ের মরশুম। তবে শুধু মালা বদল করলেই হবে না। রেজিস্ট্রিও করতে হবে। দাম্পত্য জীবন শুরু করার জন্য কেন লিখিত ‘চুক্তি’ প্রয়োজন সেটা বোঝাতেই ময়দানে নামছেন ম্যারেজ অফিসাররা। প্রয়োজনে তাঁরা মাইক ফুঁকেও প্রচার করবেন। ট্যাবলো করে তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরবেন। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের। অগ্রহায়ণের শুরু থেকেই তাঁদের ‘বিবাহ অভিযানে’ নামার জন্য বলা হয়েছে। অনেকেই চার হাত এক করতে উদ্যোগী হলেও খাতায় কলমে তাঁরা স্বামী এবং স্ত্রী হতে নারাজ থাকেন। কিন্তু ‘মউ’ স্বাক্ষর না করলে আগামী দিনে নানা সমস্যা হতে পারে। সেটা ম্যারেজ অফিসাররা বোঝাবেন। এছাড়া সরকারের আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এই প্রচারের মাধ্যমে তারা নাবালিকাদের বিয়েও রোধ করতে চাইছে। অনেকেই নির্দিষ্ট বয়সের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে। কয়েক বছর পর তা রেজিস্ট্রি করার উদ্যোগ নেয়। সেদিন চলে গিয়েছে। প্রচারে নেমে ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা এমনই বোঝাবেন। ম্যারেজ রেজিস্ট্রার পার্থ দে বলেন, কে কোন এলাকায় প্রচার করবেন তা সরকার ঠিক করে দিয়েছে। সরকার থেকেই প্রচারের খরচ দেওয়া হয়েছে। আমাকে তিনদিন বিভিন্ন এলাকায় ট্যাবলো নিয়ে গিয়ে প্রচারের জন্য বলা হয়েছে। অনেকে ম্যারেজ রেজিস্ট্রির গুরুত্ব বোঝেন না। তাঁদের সচেতন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ম্যারেজ অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি অংশুমান ফাদিকার বলেন, ভিডিও ক্লিপসের মাধ্যমেও প্রচার হবে। ১০ দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনগণকে সচেতন করা হবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনার পর থেকে রাজ্যে নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর সহ কয়েকটি জেলায় এই প্রবণতা বেশি। রেজিস্ট্রি না করে তারা বিয়ে করলে সরকারি বিভিন্ন কাজে সমস্যা হতে পারে। সেটা জানানো হয়। অগ্রহায়ণ মাসে বেশি বিয়ে হয়। সেই কারণে প্রচারের জন্য এই সময়টাকে বেছে নেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, রেজিস্ট্রির গুরুত্ব নিয়ে আগেও প্রচার করা হয়েছে। এখন তবুও হবু বর বা কনেরা কিছুটা সচেতন হয়েছেন। আগে রেজিস্ট্রির সংখ্যা অনেক কম ছিল। আগামী দিনে প্রতিটি বিয়ে যাতে রেজিস্ট্রি হয় তারজন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাবালক এবং নাবালিকরা বিয়ে করলে রেজিস্ট্রি করতে পারবে না। অনেকে চাপে পড়ে বিয়ের কয়েক বছর পর রেজিস্ট্রি করতে চায়। সেসব বন্ধ হবে। সামাজিক বিয়ের আগেই রেজিস্ট্রি করে নেওয়া উচিত। গ্রামীণ এলাকায় প্রচারে বেশি জোর দেওয়া হবে। কীভাবে প্রচার করতে হবে তার রূপরেখা সরকার ঠিক করে দিয়েছে। প্রচারের জন্য ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের খরচ করার দরকার নেই। সরকারই সবকিছু বহন করছে। তাঁরা প্রচারে উদ্যোগী হবে বলেই আধিকারিকদের মত।



