Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজনৈতিক সৌজন্য ও সম্প্রীতির নজির দাসপুরে গোপীগঞ্জের মেলায়

রাজনৈতিক সৌজন্য ও সম্প্রীতির নজির দাসপুরে গোপীগঞ্জের মেলায়
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: শাসক ও বিরোধী দলের তরজা দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু কোথাও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পারস্পরিক সৌজন্য ও সম্প্রীতি দেখা গেলে তা নজিরবিহীন বলেই মনে হয়। তেমনই এক ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেল দাসপুর-২ ব্লকে। বুধবার রাতে গোপীগঞ্জের একটি মেলার উদ্বোধনী মঞ্চে দেখা গেল তেমনই এক দৃশ্য। মঞ্চ ভাগ করে নিলেন তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএমের নেতারা। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ সত্ত্বেও তাঁদের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ মুগ্ধ করেছে উপস্থিত মানুষদের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একে অপরের প্রতি সৌজন্যমূলক বক্তব্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করার এই বার্তা শুধু দাসপুরের নয়, গোটা রাজ্যের জন্যই এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।বুধবার গোপীগঞ্জের কালীতলায় ‘গোপীগঞ্জ আনন্দ মেলা ও উৎসব’-এর উদ্বোধন ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আশিস হুদাইত, তৃণমূলের দাসপুর-২ ব্লক সভাপতি সৌমিত্র সিংহরায়, সিপিএম নেতা তথা দক্ষিণবাড় গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান হাসিনুর রহমান, বিজেপির জেলা নেতা তপন দত্ত সহ অনেকেই। প্রত্যেকেই মঞ্চে পাশাপাশি বসে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলেন। তাই দেখে উপস্থিত শ্রোতা ও দর্শকরা অভিভূত। কারণ মেলাতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই কোনও না কোনও দলের সমর্থক। আশিসবাবু বলেন, ‘বাড়িতে প্রত্যেকটি সদস্যের মতপার্থক্য থাকে, তবুও আমরা একসঙ্গে সুখে বাস করি। সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সেটা হওয়া দরকার।’ 
Advertisement
সিপিএম নেতা হাসিনূর রহমান বলেন, ‘আমাদের ব্লকে রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকে, অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়াই না।’ ওই গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি সৈয়দ আনসার-উল-আলামের কথায়, ‘আমাদের এলাকায় নির্বাচনের সময় প্রত্যেক দলের বুথ পাশাপাশি হয়। এক দলের কর্মী অন্য দলের ছোলা সেদ্ধ, চপ, মুড়ি ভাগাভাগি করে খান। এসব দৃশ্য আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি।’ বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া আরও একধাপ এগিয়ে বাম জমানার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘সিপিএমের রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের সময়ও এই ব্লকে কোনও প্রভাব পড়েনি। ওই সময় পঞ্চায়েত সমিতি বহু গ্রামপঞ্চায়েত কংগ্রেস ও পরে তৃণমূল দখল করেছে।’ মেলার আয়োজক কমিটির সম্পাদক বাসুদেব কুণ্ডুর সংযোজন, ‘এই মঞ্চের মূল বার্তাই হল একতা। এক মঞ্চে তিন দলের নেতাদের দেখতে পেয়ে মানুষ অভিভূত। আমরা চাই এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও ধরে রাখা হোক।’
বিজেপি নেতা তথা ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, ‘ঘাটালের শিশু মেলাতে বিজেপি, সিপিএম কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। বিদ্যাসাগর মেলা বা বইমেলাতেও তাই। দাসপুর-২ ব্লক এদিক দিয়ে অনেক এগিয়ে।’
সম্পর্কিত সংবাদ