নয়াদিল্লি: নির্বাচনী বন্ড হোক বা ট্রাস্ট, কিংবা সাধারণ মানুষের চাঁদায় বছর বছর ফুলেফেঁপে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলির কোষাগার। অথচ সেই অনুদানে করছাড়ের জন্য মোদি জমানায় সরকারি কোষাগারে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার। সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য । কর্পোরেট ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন, এমনকী কোনও ব্যক্তিরও রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদানে করছাড়ের সুবিধা পায়। কমনওয়েল্থ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের গবেষক বেঙ্কটেশ নায়েকের সমীক্ষা বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়পর্বে সেই করছাড়ের সুযোগেই বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রের। শুধু তা-ই নয়, আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ধরা পড়েছে তাঁর রিপোর্টে। যেমন, রাজনৈতিক অনুদানের ক্ষেত্রে কর্পোরেটদের পিছনে ফেলে দিয়েছে ব্যক্তিগত ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারগুলির অনুদান। কারা হিন্দু অবিভক্ত পরিবার? এই আয়করের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘এইচইউএফ’। কোন জাদুমন্ত্রে তাদের অনুদান এত বেড়ে গেল? উত্তর মেলেনি। আবার এও দেখা গিয়েছে, একটা বড় অংশের কর্পোরেট সংস্থা অনুদান দিয়ে করছাড়ের সুবিধা নেয়নি। প্রশ্ন উঠেছে, কোন সুবিধার জন্য করছাড় না নিয়েই টাকা ঢালছে কর্পোরেট মহল? আয়কর বিভাগের কাছে তথ্যের অধিকার আইনে এ সক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন গবেষক।
Advertisement
পরিচয় গোপন রেখে রাজনৈতিক দলগুলিকে অনুদানের জন্য চালু থাকা নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থা গত বছর বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও বাকি পন্থাগুলি চালু আছে। বিজেপির আমলে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে। নায়েকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২০২৩-২৪ সালে ২৭টি রাজনৈতিক দলকে অনুদানের পরিমাণ ৭ হাজার ২০৩ কোটিতে পৌঁছে গিয়েছিল। অথচ মোদি জমানার শুরুতে, ২০১৫-১৬ সালে ৪৩টি দল পেয়েছিল মাত্র ৭০৪ কোটি টাকা।
কেন্দ্রের বাজেট নথি, নির্বাচন কমিশনের পেশ করা তথ্য পর্যালোচনা করেছেন গবেষক বেঙ্গটেশ। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর অডিট রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবারগুলির অনুদানকারীদের করছাড়ের দাবি ছিল মাত্র ৬৬.১ কোটি টাকার। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৮৫ লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ৩ হাজার ৪৪৬ শতাংশ। তুলনায় কর্পোরেট (৫১৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা) এবং অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনগুলি (১১৫ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা) বহু পিছিয়ে। কর্পোরেট ক্লেম ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৯১ টাকার শিখর ছুঁয়েছিল লোকসভা ভোটের বছরে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে।
সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ৯ বছরে মোট ২৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা অনুদানের মধ্যে মাত্র ৪১.৭৬ শতাংশ ক্ষেত্রে করছাড়ের দাবি করা হয়েছে। ফলে বাকি ৫৮ শতাংশ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বেঙ্কটেশ বলছেন, ‘এই অনুদানে ১০০ শতাংশ করছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগ দাতা, বিশেষ করে কর্পোরেটরা ওই সুবিধার দাবিই করেনি। কেন?’ সেই জবাব মিলছে না।
কেন্দ্রের বাজেট নথি, নির্বাচন কমিশনের পেশ করা তথ্য পর্যালোচনা করেছেন গবেষক বেঙ্গটেশ। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)-এর অডিট রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত ও অবিভক্ত হিন্দু পরিবারগুলির অনুদানকারীদের করছাড়ের দাবি ছিল মাত্র ৬৬.১ কোটি টাকার। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৮৫ লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার ৩ হাজার ৪৪৬ শতাংশ। তুলনায় কর্পোরেট (৫১৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা) এবং অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনগুলি (১১৫ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা) বহু পিছিয়ে। কর্পোরেট ক্লেম ১ হাজার ১৬৯ কোটি ৯১ টাকার শিখর ছুঁয়েছিল লোকসভা ভোটের বছরে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে।
সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, ৯ বছরে মোট ২৮ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা অনুদানের মধ্যে মাত্র ৪১.৭৬ শতাংশ ক্ষেত্রে করছাড়ের দাবি করা হয়েছে। ফলে বাকি ৫৮ শতাংশ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বেঙ্কটেশ বলছেন, ‘এই অনুদানে ১০০ শতাংশ করছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগ দাতা, বিশেষ করে কর্পোরেটরা ওই সুবিধার দাবিই করেনি। কেন?’ সেই জবাব মিলছে না।



