Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজধানীর চালককে অপহরণের মামলায় বেকসুর খালাস ছত্রধর, ১৬ বছর পর মুক্তি

রাজধানীর চালককে অপহরণের মামলায় বেকসুর খালাস ছত্রধর, ১৬ বছর পর মুক্তি
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও ঝাড়গ্রাম: দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাজধানী এক্সপ্রেসের চালককে অপহরণের মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন জঙ্গলমহলের তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাত। মঙ্গলবার কলকাতার বিচারভবনে এনআইএ’র বিশেষ আদালত ছত্রধরকে ওই মামলা থেকে রেহাই দিয়েছে। এদিন তাঁর চার সঙ্গীও এই মামলা থেকে মুক্তি পান। তাঁদের দুই আইনজীবী জাকির হোসেন ও সঞ্জয় সিং বলেন, ‘আদালতে আমাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি এনআইএ। সেই কারণে চার্জ গঠনের আগেই মামলা থেকে বিচারক ছত্রধরকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দেন।’ 
Advertisement
আদালতের মন্তব্য, ধৃতের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। অন্যদিকে, শোরগোল ফেলে দেওয়া এই মামলা থেকে খালাস পাওয়ায় ছত্রধর বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে‌ই তৎকালীন বাম সরকার আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিল। দীর্ঘদিন আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। যার কোনও ভিত্তি ছিল না। কিন্তু কোর্টের রায়ে প্রমাণিত হয়ে গেল, আমি ই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নই।’ যদিও ছত্রধরের বিরুদ্ধে অন্য একটি খুনের মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে বাঁশতলা রেল স্টেশনে রাজধানী এক্সপ্রেসের চালককে অপহরণের মামলায় তৎকালীন বাম সরকারের পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওই একই বছরে সিপিএমের এক নেতাকে খুনের মামলাতেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। দু’টি মামলার বিচার চলছিল ঝাড়গ্রামের জেলা আদালতে। পরবর্তী সময় কলকাতা হা‌ই঩কোর্টের নির্দেশে তিনি জামিন পান। কিন্তু ২০২১ সালে এনআইএ দু’টি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। গ্রেপ্তার করা হয় ছত্রধরকে। পরে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়। তদন্ত শেষে দু’টি মামলাতেই জঙ্গলমহলের ওই নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় এনআইএ। এরপর এই মামলা নিয়ে চলে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন। সম্প্রতি মামলা থেকে রেহাই চেয়ে ছত্রধর মাহাত কোর্টে আর্জি জানান। এদিন বিচারক তাঁকে মামলা থেকে রেহাই দেন। 
জামিন পেয়ে ছত্রধর বলেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সিবিআই, এনআইএকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। নিম্ন আদালত এদিন রায়ে স্পষ্ট বলেছে, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গ্ৰহণযোগ্য নয়। বেকসুর খালাসের সঙ্গে বন্ডের টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গণতন্ত্রে বিজেপির বিশ্বাস নেই। ওরা বাংলাকে দখল করতে চাইছে। আমার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে।’
২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর ঝাড়গ্রামের বাঁশতলায় ভুবনেশ্বর-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস আটক করে মাওবাদী ও জনসাধারণের কমিটির লোকজন। ওই মামলায় ছত্রধরকে অভিযুক্ত করা হয়। রাজধানী এক্সপ্রেস আটকের সময় ছত্রধর অবশ্য জেলবন্দি ছিলেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে বাঁশতলায় রাজধানী এক্সপ্রেস থামান সশস্ত্র মাওবাদীরা। এনআইএ দাবি করে, জেলে বসেই ছত্রধর রাজধানী এক্সপ্রেস আটকানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনে শেষ হাসি হাসলেন ছত্রধর।  ফাইল চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ