সংবাদদাতা, মানকর: আসানসোল ডিভিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রাজবাঁধ। দৈনিক ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্টেশনে আসেন। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, আপ ও ডাউন প্ল্যাটফর্মে একটি করে শেড রয়েছে। ফলে বৃষ্টি বা রোদের সময় যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিতে হয় ওভারব্রিজে। যাত্রীদের দাবি দু’টি প্ল্যাটফর্মেই আরও একটি করে শেড তৈরি করা হোক। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
হাওড়া-দিল্লি রেললাইন গিয়েছে রাজবাঁধের উপর দিয়ে। আর একদিকে রয়েছে জাতীয় সড়ক। আশেপাশে রয়েছে আমলাজোড়া, শোকনা, গোপালপুরের মতো একাধিক গ্রাম। দুর্গাপুর লাগোয়া রাজবাঁধে বসতি বাড়ছে। একাধিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও কারখানা গড়ে উঠেছে এই এলাকায়। এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একাংশ রাজবাঁধ স্টেশনে নেমে নিয়মিত কাজে যান। সময়ের সাথে সাথে গুরুত্ব বাড়ছে রাজবাঁধ স্টেশনের। নিত্যযাত্রী সুরজিৎ গুপ্ত বলেন, রাজবাঁধ স্টেশনে নেমে নিয়মিত কাজে যাই। কিন্তু দু’টি প্ল্যাটফর্মে একটি করে শেড রয়েছে। দু’টি শেডই পশ্চিম প্রান্তে বা পিছনের দিকে। কিন্তু ওভারব্রিজটি সামনের দিকে। বৃষ্টিতে খুবই সমস্যা হয়। বাধ্য হয়ে ওভারব্রিজেই দাঁড়িয়ে থাকি। সামনের দিকেও যাত্রীদের জন্য শেড করলে সমস্যার সুরাহা হবে। নিত্যযাত্রী জগন্নাথ পাত্র বলেন, রাজবাঁধ স্টেশনের উপর স্থানীয়রা ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বহু মানুষ কাজ করতে আসেন। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ট্রেন। কিন্তু স্টেশনে একটি মাত্র শেড থাকায় বৃষ্টির সময় ট্রেন থেকে নামলে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। স্টেশনের সামনে ও পিছনে দু’টি শেডের প্রয়োজন। বর্ধমান স্টেশনে যাওয়ার ট্রেন ধরতে এসেছিলেন বর্ণালি হালদার। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে কড়া রোদ থেকে বাঁচতে গাছের ছায়াতেই বসতে হয়। দুর্গাপুর যাওয়ার সময় স্টেশনে একদম সামনের দিকে এবং বর্ধমান যাওয়ার সময় স্টেশনে একদম পিছন দিকে শেড রয়েছে। বৃষ্টি হলে যাত্রীরা খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েন। স্টেশনে দু’টি শেড প্রয়োজন। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্টেশনের কাউন্টার থেকে মাসে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। বর্তমানে যাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজবাঁধ ছাড়াও আমলাজোড়া, মানা সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা রাজবাঁধে এসে নিয়মিত ট্রেন ধরেন। শেড বাড়লে সকলের সুবিধা হবে। বিষয়টি দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে রেল।