সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর মদনমোহনের জন্য এবার তৈরি হবে নতুন রথ। মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকে যে রথে প্রতিবছর মদনমোহন রথযাত্রা করেন তার বয়স ১৩৫ বছরেও বেশি। এই রথের সঙ্গে কোচবিহারবাসীর ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রথটি সংস্কার করে চলছিল। এবার পুরো রথই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুবহু রাজআমলের রথের আদলেই বানানো হবে এই নতুন রথ। যিনি পুরনো রথ সংস্কার করতেন তিনিই এই নতুন রথ তৈরি করবেন। নয়া রথ নির্মাণের জন্য খরচ হবে সাড়ে চার লাখ টাকা। বনদপ্তর থেকে শাল ও সেগুন কাঠ কিনে এনে নতুন রথ নির্মাণ করা হবে। সোমবার রথের সেই কাঠ দেখতে কোচবিহার থেকে জলদাপাড়ায় যান মদনমোহন মন্দিরের কর্মীরা। প্রশাসনের দাবি, এবারে মদনমোহনের রথযাত্রার আগেই নতুন রথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ফলে নয়া রথে চেপেই মদনমোহন এবার মন্দির থেকে মাসির বাড়ি যাবেন।
কোচবিহারে মহকুমা শাসক কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রথ তৈরির জন্য আমরা বনদপ্তরের থেকে ৭০ শতাংশ কাঠ পেয়েছি। বাকিটাও পাওয়া যাবে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের কর্মীরা জলদাপাড়ায় গিয়েছেন। ২ মার্চ থেকে রথের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছি। রাজআমলের পুরনো রথ যিনি মেরামত করতেন তাঁকেই নতুন রথ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরনো রথের ‘কার্বন কপি’ হিসেবে নতুন রথ বানানো হবে। সরাসরি বনদপ্তর থেকে কাঠ কিনে, মন্দিরের পক্ষ থেকে নির্মাতা নিয়োগ করে কাজটি করা হচ্ছে। রথযাত্রার এখনও চার মাস বাকি। আমাদের সকলের চেষ্টা ও আশা এবার নতুন রথেই মদনমোহনের রথযাত্রা হবে। পুরনো রথের কি হবে তা পুরোহিতদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, মদনমোহনের নতুন রথ নির্মাণের কাঠের জন্য জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জে এসেছি। এখান থেকেই শাল ও সেগুন কাঠ কেনা হচ্ছে। ১৮৯০ সালে মদনমোহন মন্দির চালু হওয়ার পর থেকে ওই রথটিই ছিল। সংস্কার করে সেটিকে চালানো হচ্ছে। এবার পুরনো রথের জায়গায় নতুন রথ আসবে।
মদনমোহনের রাসযাত্রা, দোলযাত্রার মতো অন্যতম প্রধান একটি উৎসব হল রথযাত্রা। চলতি বছর জুন মাসের ২৭ তারিখ রথযাত্রা। ২ মার্চ থেকে নতুন রথ নির্মাণের কাজ শুরু হলে এবার সেই রথে চেপেই মদনমোহন মাসির বাড়িতে যেতে পারবেন বলে সকলের আশা। - ফাইল চিত্র।