Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হল মহিশুড়া পঞ্চায়েতে,নবদ্বীপে ‘বর্তমান’-এর খবরের জের

‘বর্তমান’-এর খবরের জেরে অবশেষে স্থায়ীভাবে ভাগীরথী নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হল নবদ্বীপের মহিশুড়া পঞ্চায়েত এলাকায়।

নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হল মহিশুড়া পঞ্চায়েতে,নবদ্বীপে ‘বর্তমান’-এর খবরের জের
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ‘বর্তমান’-এর খবরের জেরে অবশেষে স্থায়ীভাবে ভাগীরথী নদী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হল নবদ্বীপের মহিশুড়া পঞ্চায়েত এলাকায়। প্রায় দু’কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ীভাবে এই কাজ শুরু হওয়ায় খুশি ওই পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। সরাসরি উপকৃত হবেন কুর্মিপাড়া, গদখালি মালিতা পাড়া,চৌধুরীপাড়া সহ নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা।

Advertisement

বেশ কয়েক বছর ধরে ভাগীরথী তীরবর্তী মহিশুড়া পঞ্চায়েতের কুর্মিপাড়া, গদখালি মালিতাপাড়া, চৌধুরীপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছিল নদী ভাঙন। ইতিমধ্যে গ্রামের মন্দির, মসজিদ, স্কুল, বসত বাড়ি সহ কয়েকশো বিঘা কৃষি জমি নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

মালিতাপাড়ার বাসিন্দা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যা রাজিয়া মালিতা বলেন, বিয়ে হওয়ার পর থেকেই এখানে এসে দেখছি নদী ভাঙন চলছে। এই গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকার মন্দির, মসজিদ, স্কুল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে।  ভাঙনরোধে সাময়িকভাবে বোল্ডার, বাঁশের খাঁচা আর বালির বস্তা দেওয়া হয়েছিল। তার জেরে বেশ কয়েক বছর ভাঙন বন্ধও হয়ে যায়। পরবর্তীকালে সেই বাঁশের খাঁচা, বোল্ডারও নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। সেচদপ্তর এবার নতুন করে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করছে। গদখালি মালিতা পাড়ার বাসিন্দা সোহেল মালিতা বলেন, গত তিন চার বছরে আমাদের প্রায় চার বিঘা কৃষি জমি নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। অবশিষ্ট আছে তিন বিঘা জমি। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি। আমরা চাই ভাঙন রোধের  কাজ যেন ভালোভাবে করা হয়।

জেলা পরিষদের সদস্যা তৃণমূলের আরজুবানু খাতুন বলেন, দিনের পর দিন ভাঙনের জেরে নদী জনবসতি এলাকার দিকে এগিয়ে আসছিল। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ভাঙন প্রতিরোধের এই কাজ শুরু হয়েছে। এই পঞ্চায়েতের একজন বাসিন্দা হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

জেলা সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিশুড়া পঞ্চায়েতের কুর্মিপাড়া থেকে চৌধুরীপাড়া ডাঙা পর্যন্ত প্রায় দু›কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে। এর জন্যে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তিন কোটি এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বালিভর্তি বস্তা নাইলন ক্রেটের সিমেন্টের পলিব্যাগ করে ভাঙনের কাজ করা হচ্ছে। পরবর্তীকালে বোল্ডার দিয়ে টো-ওয়ালের কাজ করা হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া ভাঙন প্রতিরোধের কাজ বর্ষার আগে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ