Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদী দখলেই বিপর্যয়! প্রতি বছর বর্ষা এলেই বানভাসি আসানসোল

আসানসোলের নিকাশি ব্যবস্থার লাইফ লাইন গাড়ুই নদী দখল করে গড়ে উঠেছে ম্যারেজ হল, বহুতল

নদী দখলেই বিপর্যয়! প্রতি বছর বর্ষা এলেই বানভাসি আসানসোল
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের নিকাশি ব্যবস্থার লাইফ লাইন গাড়ুই নদী দখল করে গড়ে উঠেছে ম্যারেজ হল, বহুতল। জলবহন ক্ষমতা হারিয়ে বর্ষা হলেই গাড়ু‌ই ভাসিয়ে দিচ্ছে শহরের বিস্তীর্ণ অংশ। গত পুর নির্বাচনের ইস্তেহারে গাড়ুই মাস্টার প্ল্যান গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সব রাজনৈতিক দল। কিন্তু চার বছর পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন রাজ্যে  ডবল ইঞ্চিন সরকার। পুরমন্ত্রী আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক। স্বাভাবিক ভাবেই গাড়ুই মাস্টার প্ল্যানের দাবি জোরাল হচ্ছে শহরে। 

Advertisement

২০২১ সালে একদিনে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল আসানসোলে। তখন সবে তৃতীয় তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তৈরি হয়েছে। জেলার মন্ত্রী মলয় ঘটক ছাড়াও পরিস্থিতি যাচাই করতে ছুটে এসেছিলেন তৎকালীন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ খান। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, গাড়ুই মাস্টার প্ল্যান হবে। তার একবছর পর ২০২২ সালে আসানসোলে পুরসভা নির্বাচন হয়। সব দলই গাড়ুই সংস্কার, গাড়ুইকে নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করে নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিপুল জনসমর্থনে জিতে আসানসোল পুরসভার দখল নেয় তৃণমূল। রাজ্যে ও পুরসভায় তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও গাড়ুই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হয়নি। আসানসোল পুরসভার তৎকালীন মেয়র বিধান উপাধ্যায় গোটা নদী সংস্কার না করে তাঁর বাসস্থান সংলগ্ন সৃষ্টিনগর এলাকায় নদী চওড়া করিয়ে সৌন্দর্যায়নের উপর জোর দেন। 
কিন্তু যে রেলপাড়ে মূলত গাড়ুই জবরদখল হয়েছে সেখানে উচ্ছেদের সাহস দেখায়নি তৃণমূল। বিজেপির অভিযোগ, নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতেই এই অরাজকতাকে প্রশয় দিয়েছে তৃণমূল সরকার ও তৎকালীন মন্ত্রী মলয় ঘটক। অনেকে অভিযোগ করেন, বহু তৃণমূল নেতাই নদী দখল করে নির্মাণ করেছেন। কেঁচো খুড়তে গেলে কেউটে বের হবে। তাই সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল সরকার। গাড়ুইয়ের প্রকৃত সংস্কার না হওয়ায় আসানসোল শহরের জল নিকাশির সমস্যা থেকেই গিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ দাবি তুলেছেন, তৃণমূল সরকার যে কাজ করতে পারেনি, ডবল ইঞ্জিনের বিজেপি সরকার সেই কাজ করে দেখাক। 
কংগ্রেস রাজ্য সম্পাদক প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে গাড়ুই নদী দখলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছে। তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন কাউন্সিলাররা নিজেরা‌ই নদী দখল করে নির্মাণ করেছে। তৃণমূল গাড়ুই সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনো কাজ করেনি। তার প্রমাণ প্রতি বর্ষায় আসানসোলের বানভাসি হওয়া। 
বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে তৃণমূল আসানসোলের বেশিরভাগ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। এর জবাব মানুষ তাঁদের দিয়েছে। নদী দখল করে গড়ে ওঠা নির্মাণ ভাঙতেই হবে। না হলে এই সমস্যা মেটানো যাবে না। আমাদের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। 
প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, আমাদের আমলে ধারাবাহিক ভাবে গাড়ু‌ই নদী সংস্কার হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার আগে সংস্কার করা হতো। সার্ভে করে দেখা হতো কোন এলাকায় জল যেতে বাধা পাচ্ছে। এবার সেই কাজ না হওয়ার জন্যই বিপত্তি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ