নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রথমবার পরীক্ষায় বসতেই মিলল সাফল্য। ইউপিএসসির পরিচালনায় হওয়া সিএপিএফ (কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডান্ট পদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নজর কাড়লেন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের যুবক ঋত্বিক। এক পরীক্ষাতেই গ্রুপ-এ গেজেটেড অফিসার। বাবার আয় বেশি নয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পুরানো বই সংগ্রহ করে তা কলেজ স্ট্রিটে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন তিনি। মা গৃহবধূ। কষ্ট করেই পড়াশোনা করতে হয়েছে তাঁকে। তবে টানাপোড়েনের সংসারে ছেলেকে মানুষ করতে কোনো খামতি রাখেননি কেউই। ২০২৪ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন রানিয়ার বাসিন্দা ঋত্বিক ভাণ্ডারী। ওই পরীক্ষায় ৩৮০ র্যাঙ্ক করে সবাইকে চমক দিয়েছিলেন তিনি। শনিবার মধ্যপ্রদেশে যোগ দিয়েছেন প্রশিক্ষণ শিবিরে। সেখানেই টানা এক বছর চলবে ট্রেনিং। তারপর মিলবে পোস্টিং।
ঋত্বিক সিএপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদের পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন ২০২২ সালে। মা মৌমিতা ভাণ্ডারীর দাবি, কোনো প্রতিষ্ঠানে ভরতি হওয়া তো দূরের কথা, কারও কাছে গিয়ে পড়ার সুযোগও হয়নি। নিজেই গিয়ে বই কিনে আনত, নিজে নিজেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত। মাঝে অনলাইনে ‘মক টেস্ট’ দিয়েছে মাত্র। মৌমিতাদেবীর কথায়, সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যদিনের সঙ্গী। তার মধ্যেই যতটা পেরেছি, ছেলেকে মানুষ করার চেষ্টা করেছি। তবে ওর অধ্যবসায়ের কথা না বললেই নয়। কলেজের গণ্ডি পেরনোর পর টিউশনি করে বই কেনার টাকা জোগাড় করেছে ঋত্বিক। আর প্রস্তুতির সময় কোনো দিকে তাকায়নি ও। লক্ষ্য স্থির ছিল। পরিশ্রমের মূল্য পেয়েছে।
যিনি এই সাফল্যের অধিকারী সেই ঋত্বিক ভাণ্ডারীর কথায়, পরিশ্রমের জন্যই এই সাফল্য এসেছে। তবে এর পিছনে বাবা ও মায়ের অবদানের কথা গোপন রাখেননি তিনি। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবব্রত মণ্ডল বলেন, ঋত্বিক বাংলার গর্ব। এই কঠিন পরীক্ষায় প্রথমবার বসেই যে তিনি সফল হয়েছেন, তাতে আমরা খুশি।