নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ বর্ধমানের কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরের ভোগ বিতরণ। পুণ্যার্থীরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। আগে মন্দিরের পুজো দেওয়ার পাশাপাশি ভোগ খেয়ে বাড়ি ফিরতেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। তাঁরা চাইছেন, ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরে আবার পুণ্যার্থীদের জন্য ভোগ চালু হোক। তারজন্য তাঁরা মূল্য দিতে রাজি আছেন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের উদ্যোগেই পুণ্যার্থীদের জন্য ভোগ চালু হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিক অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন। তাঁর আমলে কাঙ্কালেশ্বরী মন্দির চত্বরের সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেসব নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। প্রাচীন এই মন্দিরে ভোগ চালুর জন্য শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্দিরের পুজো দিতে এসেছিলেন উর্মিলা দত্ত নামে এক পুণ্যার্থী। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না। এর আগে একাধিকবার এই মন্দিরে এসেছিলাম। তখন এখানকার পরিবেশ অন্য রকম ছিল। এখন কেমন যেন সব কিছু বদলে গিয়েছে। যতবার এখানে এসেছি, ভোগ খেয়ে ফিরেছি। কিন্তু এবার এসে ভোগ পেলাম না। ভোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
আর এক পুণ্যার্থী রঞ্জনা সেনগুপ্ত বলেন, মন্দিরে পুণ্যার্থীদের জন্য ভোগ চালু রাখা দরকার ছিল। অনেকেই মন্দিরে এসে জানতে পারছেন, ভোগ দেওয়া হবে না। এটা ঠিক হচ্ছে না। মায়ের মন্দিরে চালু প্রথা বন্ধ হওয়া উচিত নয়। শহরের এই মন্দির বহু পুরনো। এখানে শুধু বর্ধমান নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা পুজো দিতে আসেন। তাঁরাও হতাশ হয়ে ফিরছেন। মন্দির নিয়ে রাজনীতি না করাই ভাল।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু রথতলার উন্নয়নে তিনি বড়ো ভূমিকা নিয়েছিলেন। মন্দির চত্বরের পরিবেশও বদলে দিয়েছিলেন। এখন কেউ কিছুই করছে না।
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। ওদের থেকে বড়ো হিন্দু নাকি আর কেউ নেই। অথচ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মন্দিরের ভোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরে ভোগ বন্ধ করে হিন্দুদের আবেগে আঘাত করা হয়েছে। আড়াই মাস আগেও এখানে প্রতিদিনই শতাধিক পুণ্যার্থীরা ভোগ খেয়ে বাড়ি ফিরতেন। এখন তাঁরা মন্দিরে পুজো দিতে এসে জানতে পারছেন, ভোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
পুণ্যার্থীরা বলছেন, ভোগ চালু করার জন্য সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। পুণ্যার্থীরাও সহযোগিতা করতে রাজি। শুধু উদ্যোগের অভাব রয়েছে। সেটা শাসক দলকেই নিতে হবে। তা না হলে পূর্ণাথীদের হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হবে। নিজস্ব চিত্র