অভিষেক পাল, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় বহরমপুরের তৃণমূল ভবন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এই অফিসের দখল নিল। টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন সরকারি জায়গায় থাকা এই অফিস উচ্ছেদ করে সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরির দাবি করেছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক। তবে আদতে তা হয়নি। বন্ধ থাকা অফিসে অবশেষে তৃণমূলের নেতাদের অনাগোনা শুরু হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের পারদ চড়ল। বুধবার দুপুরের পর থেকে উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বহরমপুরের এই পার্টি অফিস যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পেল। ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখের মনোনয়ন জমা দেওয়ার এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঋতব্রত শিবিরের নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক আখরুজ্জামান, ইমানি বিশ্বাস, জেলাসভাপতি অপূর্ব সরকার, সাংসদ আবু তাহের খান সহ অন্যান্যরা। আর এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিরোধী শিবিরের দুই ভাগের কোন্দল ফের একবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ফিরহাদের উপস্থিতিতে বহরমপুরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মূল দলীয় কার্যালয়টি নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় ঋতব্রত শিবির। অভিযোগ, কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা আগের সমস্ত ব্যানার খুলে ফেলেন। অভিষেক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে সেখানে নতুন ফ্লেক্স টাঙিয়ে দেওয়া হয়। মণিষীদের ছবি ও তৃণমূলের লোগো দেওয়া ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে ঋতব্রত তৃণমূলের তরফে।
দলীয় কার্যালয় নিজেদের দখলে নেওয়ার পরেই সেখানে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক বসেন ঋতপন্থী নেতারা। কাকতালীয়ভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করা আবু তাহের খানও সেখানে হাজির ছিলেন। উপনির্বাচনে জয়ের কৌশল কী হবে, এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার মিছিল কীভাবে এগোবে, সেই বিষয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। দলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখকে সমর্থন জানাতে এ দিন বহরমপুরে জড়ো হয়েছিলেন জেলা ও রাজ্যের একঝাঁক শীর্ষ নেতা। তবে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও মনোনয়ন জমা করেছেন তিনদিন আগে। তবে তাঁর কোনও কর্মী ও নেতা এই পার্টি অফিসের দিকে পা বাড়াননি।
জোড়াফুল প্রতীক বা দলের নাম কার দখলে থাকবে, সেই জটিলতা এখনও কাটেনি। নির্বাচন কমিশন কালীঘাট ও ঋতব্রত, উভয় শিবিরের সঙ্গেই আলাদাভাবে বৈঠক করেছে। সবাই এখন তাকিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে। তবে প্রতীক নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও দু’পক্ষই উপনির্বাচনের জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। লড়াইয়ের আগে প্রতীকহীন অবস্থাতেই দুই শিবিরের এই শক্তিপ্রদর্শন ও দখলদারির রাজনীতিতে এখন চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
দলের জেলা সভাপতি তথা ঋতপন্থী নেতা অপূর্ব সরকার বলেন, ‘এই পার্টি অফিস তৃণমূলের। আমরাই আসল তৃণমূল। তাই আমাদের পার্টি অফিসে আমরা এসে কাজ করছি। নির্বাচনের ফলাফলের পর আমরা হয়তো পার্টি অফিসে আসিনি। কিন্তু পার্টি অফিস খোলা হয়েছে। কর্মীরা এসে কাজও করেছে। এবার সামনে নির্বাচনী লড়াই। তাই পার্টি অফিসে লোকজনের যাতায়াত বেড়েছে। নতুন করে দখল নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।’