অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: চলতি শব্দবন্ধকে ভিন্ন ‘অর্থে’ ব্যবহার করেছেন তিনি। আর তাতেই খুলে গিয়েছে ‘অর্থ’ উপার্জনের পথ। কালীপদবাবুর ‘ঢপের চপ’ বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন। ভুলিয়ে দিয়েছে কাজ হারানোর যন্ত্রণার ইতিহাস। রিষড়ার হরিসভায় কালীপদ দত্তের নানা স্বাদের চপ এখন শুধু জনপ্রিয়ই নয়, চলতি কথায়-ভাইরাল। মিথ্যে বলাকে চলতি কথায় ঢপের চপ বলাটা বহুদিন ধরে প্রচলিত। নিজের চপের দোকানের নাম কালীপদবাবু দিয়েছেন সেই ‘ঢপের চপ’। প্রথমে নামের আকর্ষণে মজেছিলেন রিষড়ার মানুষ। তারপর চপের স্বাদের গুণে আরও বেড়েছে ভিড়। ফুলেফেঁপে উঠেছে একটি রাস্তার ধারের চপের দোকান।
২০১৬ সালে হরিসভা এলাকায় ফুটপাথে চাকা দেওয়া দোকান সাজিয়ে বসেছিলেন কালীপদ। ন’বছরের পরিশ্রমে বর্তমানে এলাকার সফল এক তেলেভাজা ব্যবসায়ী তিনি। রাত আটটার পরে এলে দেখা যায়, দোকান গুটিয়ে ফেলেছেন মধ্যবয়স্ক এই চপ ব্যবসায়ী। ভিড়ের দাপটের পরও মৌরি সহ নানা গোপন মশলার গন্ধ যুক্ত স্বাদু চপ নিতে প্রতিদিন ভিড় করেন নাগরিকরা। একা হাতে ভিড় সামাল দিতে পারেন না বলে কয়েক বছর ধরে কালীবাবুর স্ত্রীও দোকানে বসছেন। তাঁর দোকানের নিয়মিত খদ্দেররা বলেন, দোকানের নামের মতোই অদ্ভুত কালীপদ’র চপের স্বাদ। সঙ্গে আছে ফুলুরি, আলুবড়া, বেগুনি, সুগার ফ্রি ভেজিটেবল চপ। সেসবের নামও অদ্ভুত। যেমন ফুলুরির নাম ‘বাতেলা ফুলুরি’, বেগুনির নাম ঝুলন্ত বেগুনি, আলুবড়া হয়ে গিয়েছে ডুবন্ত আলুবড়া। দোকান থেকে চপ, কেন এমন অদ্ভুত নামকরণ? হাসেন কালীপদ। বলেন, সমবয়সী মহলে ঢপের চপ কথাটা খুব জনপ্রিয় ছিল। একসময় দর্জির কাজ করতাম। যখন চপের দোকান দেব বলে স্থির করলাম, তখন চালু কথাটিকেই দোকানের নাম হিসেবে ব্যবহার করি। তবে বিষয়টি এতটা চর্চিত হবে তা ভাবিনি। দোকানের নামেই যে শুধু চমক আছে তা কিন্তু নয়। আমি খাঁটি সরষের তেলে চপ ভাজি। নানা মশলা ব্যবহার করি। সেই স্বাদও আমার চপকে চর্চায় এনেছে। দোকানের নাম একটু অন্যরকম। দোকানের নানা তেলেভাজার স্বাদও ভিন্ন। তাই মানানসই নাম রেখেছি। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র অবশ্য বলেন, চপ শিল্প যে আয়ের বিরাট পথ হতে পারে সে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কবেই বলেছেন। ভিন্ন নামের জোরে কেউ যদি বাণিজ্য সফল হতে পারেন, সে তো ভালো কথাই।
এই বিস্ময়কর উত্থানের আড়ালে অবশ্য আছে আরও একটি গল্প। সেটি পেশা বদলের বা বদলে যাওয়া সময়ের। রেডিমেড পোশাকের জনপ্রিয়তায় বানানো পোশাক এখন ইতিহাস হতে বসেছে। তাতেই কাজ হারাতে হয়েছিল দর্জি কালীপদকে। সেখান থেকেই তিনি ফেঁদে বসেছিলেন আসল সত্যি চপের ‘ঢপ’য়ের দোকান। কিন্তু সেসব রয়ে গিয়েছে অন্তরালে। মুখে মুখে ঘুরছে স্বাদু চপ আর তার মুচমুচে দোকানের নাম। নিজস্ব চিত্র