নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শার্দূল ঠাকুর আউট হতেই সবার চোখ টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিং-রুমের দিকে। সিঁড়ির রেলিং ধরে খোঁড়াতে খোঁড়াতে নামছেন ঋষভ পন্থ। ব্যাট করতে। করতালিতে ফেটে পড়ছে মাঠ। দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে ব্যস্ত ঋষভকে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শার্দূল ঠাকুর আউট হতেই সবার চোখ টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিং-রুমের দিকে। সিঁড়ির রেলিং ধরে খোঁড়াতে খোঁড়াতে নামছেন ঋষভ পন্থ। ব্যাট করতে। করতালিতে ফেটে পড়ছে মাঠ। দর্শকরা উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে ব্যস্ত ঋষভকে।
ক্রিকেট দুনিয়া দেখেছে অনেক যোদ্ধা। অ্যান্টিগায় চোয়াল ফেটে যাওয়ার পরেও খেলেছিলেন অনিল কুম্বলে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়েই ব্যাটে ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চুরাশিতে এক হাতে ম্যালকম মার্শালের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছিল ক্রিকেট দুনিয়া। ২০১১ বিশ্বকাপে ক্যান্সার আক্রান্ত যুবি রক্ত বমির পরেও দলকে জিতিয়ে ফিরেছিলেন। আর বৃহস্পতিবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ঋষভের খোঁড়াতে খোঁড়াতে ব্যাট করা রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে। তা দেখে মুগ্ধ প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। সিএবি’তে বসে টিভি’র পর্দায় চোখ রেখেছিলে মহারাজ। তারই ফাঁকে বললেন, ‘ঋষভ রিয়েল ফাইটার...। গাড়ি দুর্ঘটনার পর ওর কামব্যাকের সাক্ষী ছিলাম। মনের জোর প্রবল। আমরাও খেলোয়াড় জীবনে অনেক চোট আঘাত নিয়ে লড়াই করেছি। তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে দেখা ঋষভ ব্যতিক্রমী, অবিশ্বাস্য। ও বুঝিয়ে দিল কতটা টিমম্যান। সহ-অধিনায়ক এমনই হওয়া উচিত। ঋষভের এই লড়াই গোটা দলকে উজ্জীবিত করবে।’
গতকাল ক্রিস ওকসের বলে পায়ে গুরুতর চোট পেয়ে ঋষভকে ছুটতে হয়েছিল হাসপাতালে। পা ফুলে কলা গাছ। হয়েছে স্ক্যান। ব্যাট করতে নামা তো দূরের কথা, ঠিকভাবে হাঁটতেই পারছিলেন না। সকাল থেকেই জোর চর্চা ছিল, ঋষভ পন্থের পরিবর্ত খুঁজে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এমনও শোনা যায় যে, তিনি নাকি পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। কিন্তু ঋষভ যে মৃত্যুঞ্জয়ী! শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ জয়ে তিনি ব্রতী। কয়েক বছর আগে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার পর অনেকেই তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারের উপসংহার লিখে ফেলেছিলেন। যে ছেলেটা ব্যাটিংয়ের সময় শরীর ছুড়ে দিয়ে সুইপ করত, তাঁকেই কিনা হাঁটতে হচ্ছে ক্রাচে ভর করে। সেটা দেখে অনেকেই কেঁদে ভাসিয়েছিলেন। একের পর এক অস্ত্রোপচার। দীর্ঘ রিহ্যাব। বহু লড়াইয়ের পর কামব্যাক। এই ঘটনাই তাঁকে করে তোলে ইস্পাতকঠিন। চাইলেই তিনি ম্যাঞ্চেস্টারে ড্রেসিং-রুমে বসে খেলা দেখতে পারতেন। কিন্তু ক্রিকেটের অদ্ভুত নিয়মে তাঁর কোনও পরিবর্ত নিতে পারত না টিম ইন্ডিয়া। শুধু কিপিং করতে পারবেন ধ্রুব জুরেল। অর্থাৎ একজন ব্যাটার কম, যা মরণবাঁচন ম্যাচে ভারতকে অনেকটাই চাপে ফেলে দিত। তাই দেশের স্বার্থে আরও একবার জীবনের ঝুঁকি নিলেন ঋষভ।
হাতে চোট, পা খুলে কলাগাছ। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ব্যাট হাতে নেমে দুরন্ত হাফ-সেঞ্চুরি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটা সময় তো স্টোকসরা রীতিমতো তাঁর পা লক্ষ্য করেই বল করলেন। তাতেও দমানো যায়নি দামাল ছেলেকে। জোফ্রার ডেলিভারি তুলে পাঠালেন সটান বাউন্ডারির বাইরে। অবশেষে ৫৪ রানে থামল লড়াকু ইনিংস। ঋষভ হাঁটা দিলেন ড্রেসিং-রুমের দিকে। দৌড়ে এসে পিঠ চাপড়ে দিলেন জো রুট। এটাই ঋষভের কাছে বড় প্রাপ্তি! তবে ব্যাট করলেও তাঁকে নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পারবেন কিনা বলা কঠিন। এমনকী শেষ টেস্টেও তাঁর খেলা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। তাই ব্যাক-আপ হিসেবে স্কোয়াডে ডাকা হয়েছে তামিলনাড়ুর এন জগদীশনকে।