সংবাদদাতা, তেহট্ট: একসময় পুজো মানেই ছিল নতুন জামাকাপড় তৈরির ব্যস্ততা। পছন্দের কাপড় কিনে দর্জির দোকানে দিয়ে আসা, আর নির্দিষ্ট দিনে সেই পোশাক হাতে পাওয়ার অপেক্ষা—পুজোর প্রস্তুতিরই অঙ্গ ছিল তা। পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দর্জির দোকানে ভিড় লেগে থাকত। রাত জেগে কাজ করেও অর্ডার সামাল দিতে হিমশিম খেতেন দর্জিরা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবি। অনলাইন শপিং এবং রেডিমেড পোশাকের বাড়বাড়ন্তে ক্রমেই কমছে পাড়ার দর্জির দোকান। কাজ না থাকায় কেউ দোকান গুটিয়ে অন্য ব্যবসায় যাচ্ছেন, কেউ আবার বদলাচ্ছেন পেশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগেও পুজোর আগে নতুন জামা-প্যান্ট তৈরির জন্য এলাকার দর্জির দোকানগুলিই ছিল সাধারণ মানুষের ভরসা। কাপড়ের দোকান থেকে পছন্দের ছিট কিনে দর্জিকে দিয়ে আসতেন ক্রেতারা। দর্জি নির্দিষ্ট দিন জানিয়ে দিতেন পোশাক নেওয়ার। সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। পুজোর আগে অর্ডারের চাপ এতই বাড়ত যে অনেক আগে থেকেই পোশাক তৈরির বরাত দিতে হত। কিন্তু এখন সেই ব্যস্ততা অনেকটাই ম্লান। তেহট্টের বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পাড়ার ছোটো কাপড়ের দোকানেও একসময় দর্জিরা বসতেন। এখন বড়ো দোকান ছাড়া তেমন দর্জির দেখা মেলে না। পুজোর আর হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি থাকলেও পোশাক তৈরির অর্ডার তেমন নেই। দর্জিদের কথায়, নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের অধিকাংশই রেডিমেড পোশাকের দিকে ঝুঁকেছে। অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ সেই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়েছে। ফলে দর্জির কাছে মূলত প্রবীণ ক্রেতারাই আসছেন। মহিলাদের ব্লাউজ তৈরি বা শাড়িতে পার লাগানোর কাজও কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছে।