Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাইস মিলের ছাই দিয়ে ভরাট নয়ানজুলি, প্রশাসন উদাসীন

রাইস মিলের ছাই দিয়ে ভরাট নয়ানজুলি, প্রশাসন উদাসীন
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: প্রকাশ্যে রাইস মিলের ছাই দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নয়ানজুলি। ফলে নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এনিয়ে উদ্বিগ্ন ভরতপুর ১ ব্লকের আমলাই পঞ্চায়েত এলাকার চাষিরা। নয়ানজুলি ভরাটের পিছনে জমি হাঙরদের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে দাবি। রাইস মিলের ছাই উড়ে গিয়ে পড়ছে পথচলতি বাসিন্দাদের চোখেমুখে। বাসিন্দারা প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলছেন।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ওই ব্লকের ভরতপুর সিজগ্রাম মোড় থেকে একটি গ্রামীণ সড়ক লোহাদহ গ্রামের বাবলা নদীর ঘাট পর্যন্ত গিয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার ওই রাস্তার দুইপাশে রয়েছে ছ’টি রাইস মিল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহুদিন থেকে রাইস মিলের ছাই ট্রাক্টরে করে ফেলা হচ্ছে ওই রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে। সিজগ্রাম পেরোনোর পর রাস্তার দু’পাশে ছাইয়ের পাহাড় জমি গিয়েছে। কাঞ্চনগড়িয়া থেকে নোনাই সেতু পর্যন্ত প্রায় দু’ কিলোমিটার এলাকার অনেক জায়গায় নয়ানজুলির চিহ্ন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এনিয়ে বাসিন্দারা বার বার সরব হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার জমি মাফিয়া ও মিল মালিকদের যোগসাজশে নয়ানজুলি ভরাট হচ্ছে। স্থানীয় একডালা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আগে মিল মালিকরা ছাই ফেলত অনেক দূরের জমিতে। কিন্তু বছরখানেক হল একেবারে দিনের আলোয় ট্রাক্টরে করে ছাই ফেলা হচ্ছে নয়ানজুলিতে। এর ফলে নয়ানজুলি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জমিতে আর সেচ দেওয়া যায় না নয়ানজুলির জলে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নয়ানজুলি ভরাটের পিছনে জমি মাফিয়াদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। এখানকার জমি মাফিয়ারা মিল মালিকদের সঙ্গে রফা করে নয়ানজুলিতে ছাই ফেলছে। নয়ানজুলি ভরাটের পর ওই জায়গার দখল নেবে জমি মাফিয়ারা। তখন ভরাট নয়ানজুলির জমি দোকান করার জন্য মোটা টাকায় বিক্রি করবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি জায়গায় জমি মাফিয়ারা এই কাজ শুরুও করে দিয়েছে।
যদিও এক রাইস মিল মালিক শ্রীমন্ত সাহা বলেন, আমাদের মিলের ছাই এভাবে ফেলা হয় না। তবে যে মিল মালিকরা এমন করছেন তাঁরা সঠিক কাজ করছেন না। আমার এলাকার নয়ানজুলিতে ছাই পড়ে থাকলে সেগুলি তুলে ফেলা হবে। স্থানীয় আমলাই পঞ্চায়েত প্রধান গণেশচন্দ্র দে বলেন, নয়ানজুলিতে রাইস মিলের ছাই ফেলা হচ্ছে দেখা গিয়েছে। আগামী বোর্ড মিটিংয়ে এনিয়ে রেজুউলেশন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবিষয়ে কান্দি মহকুমা শাসক উৎকর্ষ সিং জানান, বিষয়টি স্থানীয় বিডিওকে দিয়ে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে মিল মালিক ও জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ