নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারে শ্যুট করে কলকাতায় ‘রিল্যাক্স’ করছিল ‘নামজাদা শার্প শ্যুটার’ নিশু খান ওরফে সাদ্দাম খান ওরফে ইউসুফ খান, তৌসিফ। সঙ্গে ছিল শচীন সিং, হরিশ কুমার। নিশুদের ‘রিল্যাক্স’ রিপন স্ট্রিটের হোটেলের এক কামরার রুমে চারজন একসঙ্গে থেকে হয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রিলস তৈরি করা নিশু ফোন করে তার কলকাতার বান্ধবীকে। সোশ্যাল মিডিয়াতেই আলাপ হয়েছিল এককালে। ফোন করে বলে, ‘কোনও ভালো হোটেল বুক করে দাও তো। এখানে চারজন এক কামরায় থাকা যাচ্ছে না।’ অনলাইনে হোটেল বুকড! রিপন স্ট্রিট থেকে বিহারের ভাইজানরা চলল আনন্দপুর গেস্ট হাউসে।
দমদম গার্ল এসে গিয়েছিলেন আনন্দপুরে। সেই নারী কি নিশুর স্ত্রী? নাকি গার্লফ্রেন্ড? প্রশ্ন রয়েছে। শনিবার রাতে আনন্দপুর গেস্ট হাউজে দুটি রুম বুক করেন সে। এদিকে রাতের ‘রিল্যাক্স’কে আরও রোমহর্ষক করার মাঝেই পুলিসের আগমন। পুলিস তখন আটঘাট বেঁধে গেস্ট হাউজে প্রবেশ করছে। সিঁড়ি দিয়ে হনহন করে নামছেন দমদম গার্ল। প্রথমেই চোখ আটকাল পুলিসের। দমদম গার্ল আটক! ইতিমধ্যেই হোটেলের খাতা আর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভাইজানদের নিশ্চিত করেছে পুলিস। তারপরেই দরজায় এক লাথি! মদ্যপানে ব্যস্ত বাদশা। বাদশা তৌসিফেরই অপর নাম। আর একটা ঘরে নিশু, হরিশ, শচীন। হরিশ-শচীন বাধা দেয় পুলিসকে। নিশু চেষ্টা করছিল বাথরুমে নিজেকে আটকানোর। চেষ্টা বৃথা! পুলিস জানতে পেরেছে, নারীসঙ্গে মেতে থাকতে খুবই পছন্দ করত বিহারের ভাইজানরা। এই ভাইজান নামটি আবার নিশু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিজেকেই দিয়েছে। পুলিসের দাবি, বাদশা নিশুর মাসতুতো ভাই। পুলিসের এমন আচমকা আগমন নিশু-বাদশাদের কাছে আসলেই ‘জল-ভাত’। শোনা যায়, বিহারের রাস্তায় দুই ভাই যখন বেরত সামনে-পিছনে থাকত পুলিসের কনভয়। নীল রঙের আলোও জ্বলত। ‘পুলিস’ লেখা গাড়িতে বসে থাকত পাঁচ-ছ’জন খাকি পোশাক পরা সশস্ত্র লোকজন। কিন্তু পুলিসের পোশাক পরে কি আসল পুলিসই থাকত? বিহার পুলিসের দাবি, দু’-একজন কনস্টেবল ছিল। কিন্তু তাদের কে বা কারা ওই নির্দেশ দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিশু-বাদশা গাড়ি থেকে নামতেই পেয়ে যেত বিধায়কদের কায়দায় নিরাপত্তা। ধারেকাছে কেউ এলেই প্রথমে হতো ‘সিকিউরিটি চেক’। শোনা যায়, নিজেকে ‘রয়্যাল ব্লাড’-এর অধিকারী বলা নিশু রাত বাড়তেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। নিশু আর বাদশার সঙ্গে সবসময় দু’জন মহিলা থাকত। এই সবকিছু ‘রিলস’ বানিয়ে রাখতে পছন্দ করে নিশু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফলোয়ার সংখ্যাও নজরকাড়া!
এত নজর কাড়ল কীভাবে বিহারের ভাইজানরা? পুলিস সূত্রে খবর, চুরি-ছিনতাই করে হাত পাকিয়েছিল তারা। তারপর জেল-ভ্রমণ। সেখানে এক ‘বড়ভাই’-এর সঙ্গে আলাপ হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তারা বেছে নেয় ‘শার্প শ্যুটার’ হয়ে ওঠার কারবার। তারপর বেশ কয়েকটা ‘সুপারি’। এভাবেই কেউ ‘বাদশা’, কেউ
হয়ে ওঠে ‘কিং’। শোনা যায়, বিহার পুলিসের খাতায় নিশু-বাদশার নামে এক ডজন করে মামলা রয়েছে। এসব কি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া ছাড়া হওয়া যায়? এরকম ‘ঝুঁকি’ বিহারের ভাইজানরা নেয়নি। কেউ ডিস্টার্ব করলেই নেতাকে খবর দিত নিশু-বাদশা। কারা তাঁরা? বিহারের ভোট আসন্ন। উত্তর আসবে? এই প্রশ্নও থাকছে।