লন্ডন: প্রথম সেশনে বেন ডাকেট ও ওলি পোপকে আউট করে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসেছিল টিম ইন্ডিয়া। ৩৫তম ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার ডেলিভারিতে মহম্মদ সিরাজের তালুবন্দি হন হ্যারি ব্রুকও। কিন্তু, ক্যাচটি ধরেই বাউন্ডারি লাইনে পা দিয়ে ফেলেন ভারতীয় পেসার। তাঁর গাছাড়া মনোভাবের ফল ভোগে দল। ব্যক্তিগত ১৯ রানে জীবন পাওয়া ব্রুক আর ফিরে তাকাননি। সেটাই চাপে ফেলে গিল বাহিনীকে। ৯৮ বলে ১১১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান ব্রুক। চতুর্থ উইকেটে জো রুটের সঙ্গে যোগ করেন ১৯৫ রান। গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফস্কানোর জন্য সিরাজকে একহাত নিয়েছেন রিকি পন্টিং। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়কের কথায়, ‘বড় ভুলের খেসারত গুনতে হল ভারতকে। এই ক্যাচটা নেওয়ার জন্য পিছিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনই ছিল না। কে জানে, কী ভাবছিল সিরাজ! জীবনলাভের সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে গেল ব্রুক। প্রশংসা করতে হবে রুটেরও। প্রতিপক্ষকে কোনওরকম সুযোগ না দিয়ে শতরান হাঁকাল।’
ওভালের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে কোনও দল ২৭৫ রানের বেশি তাড়া করতে পারেনি। তাই অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি জিততে হলে নজিরই গড়তে হতো ইংল্যাল্ডকে। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়ে যায় হোম টিম। এই প্রসঙ্গে সুনীল গাভাসকর বলছিলেন, ‘ক্যাচ মিসের খেসারত তো দিতেই হয়েছে। তবে প্রশংসা করতে হবে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের। বিশেষ করে জো রুটের। চাপের মুহূর্তে ওর চওড়া ব্যাটই ভরসা জোগাল দলকে। ব্রুকও আক্রমণাত্মক ব্যাট করে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলেছে।’ একটু থেমে সানির সংযোজন, ‘চতুর্থ দিনে ওভালের উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন কিছু ছিল না। তার উপর মাত্র তিন পেসার নিয়ে নেমেছে ভারত। এদিন প্রথম সেশনে সব এনার্জি উজাড় করে দেয় সিরাজ, প্রসিদ্ধরা। তাই লাঞ্চের পর ওদের ক্লান্ত দেখিয়েছে। তারই ফায়দা তুলল ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা।’ উল্লেখ্য, রবিবার টেস্ট কেরিয়ারে সর্বাধিক সেঞ্চুরির তালিকায় রুট (৩৯) পিছনে ফেললেন কুমার সাঙ্গাকারাকে (৩৮)। তালিকার শীর্ষে শচীন তেন্ডুলকর (৫১)। ছবি: সৌজন্যে ক্রিকইনফো