নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ছোটা প্যাকেট, বড়া ধামাকা’! ক’দিন আগে এক সাক্ষাত্কারে রিচা ঘোষের জন্য এমন উপমাই ব্যবহার করেছিলেন সতীর্থ স্মৃতি মান্ধানা। ভারতের ভাইস ক্যাপ্টেনের মন্তব্য ষোলো আনা সত্য। তার প্রমাণ মিলল মেগা আসরে। ভারতের মহিলা দলকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতানোর অন্যতম কাণ্ডারি এই বঙ্গতনয়া। স্বপ্নপূরণের পর ধন্যি মেয়ে বলছিলেন, ‘হরমনদি ক্যাচ ধরতেই আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। বুঝতেই পারছিলাম না, বিশ্বকাপ জয়টা কীভাবে সেলিব্রেট করব। স্বপ্নপূরণের মুহূর্তগুলো বোধহয় এরকমই হয়।’
বিশ্বকাপে রিচাকে ফিনিশারের রোল দিয়েছিলেন কোচ অমল মুজুমদার। আস্থার মর্যাদা দিতে ভুল হয়নি শিলিগুড়ির কন্যার। ফিনিশারের ভূমিকায় ঝড় তুলে একাধিক ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছেন। এমনকী, ফাইনালেও ২৪ বলে তাঁর ৩৪ রানের ইনিংস ব্যবধান গড়ে দিল। রিচার সংযোজন, ‘বিশ্বকাপের আগেই কোচ সবার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। আমাকে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে বলা হয়েছিল। তাই লক্ষ্য থাকত, বড় শট থেকে যতসম্ভব রান স্কোরবোর্ডে তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। দায়িত্ব পালন করে দলের বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখতে পেরে আপ্লুত।’ উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ১১৩.৫২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন রিচা।
আম্পায়ার মানবেন্দ্র ঘোষের মেয়ে রিচা ছোট থেকেই ক্রিকেট পাগল। ঘরোয়া ক্রিকেটে কিংবদন্তি ঝুলন গোস্বামীর সান্নিধ্যে আরও ক্ষুরধার হয়েছেন বঙ্গ তনয়া। ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের পরও রিচার মুখে শোনা গেল চাকদহ এক্সপ্রেসের প্রশংসা। তিনি বলছিলেন, ‘আমার কেরিয়ারে ঝুলনদি’র অবদান অনেক। দিদি সর্বদাই আমায় গাইড করেছেন।’