বিশাখাপত্তনম: বন্যায় বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ। ক্ষতিগ্রস্তদের চোখের জলে মিশে গিয়েছে জীবনের রং। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের বুকভাঙা কান্নার মধ্যে এক চিলতে আশার আলো দেখিয়ে ছিলেন সেই মাটিরই মেয়ে রিচা ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাটিংয়ের ঝলকেই ২৫১ রান তুলেছিল ভারত। কিন্তু কাজে এল না রিচার মরিয়া লড়াই। ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা সহ ৭৭ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলেও দিনের শেষে বিপর্যস্ত দেখাল তাঁকে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩ উইকেটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হোম টিমকে। আর সেই হতাশার প্লাবনে তলিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গের লড়াকু কন্যা।
অথচ ২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫৮ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে পাল্টা আক্রণের পথ বেছে নেন ক্যাপ্টেন লরা উলভার্ট। তিনি ৭০ রানে আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ভারতের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সপ্তম উইকেট জুটিতে নাদিনে ডি ক্লার্ক ও ক্লোয়ে ট্রিয়নের ৬৯ রান বদলে দেয় ম্যাচের রং। ট্রিয়ন ৪৯ করে আউট হলেও থামেননি ক্লার্ক। ৫৪ বলে ৮৪ রান করে সাত বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ধুঁকছিল ভারতও। ১০২ রানে পড়ে গিয়েছিল ৬ উইকেট। স্মৃতি মান্ধানার (২৩) ব্যাটে-বলে সংযোগই হচ্ছিল না। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত কাউরের (৯) অবস্থা আরও খারাপ। জেমাইমা রডরিগেজ তো খাতাই খুলতে পারেননি। মনে হচ্ছিল, দেড়শোর গণ্ডিও টপকাবে না ভারতের মহিলা দল। কিন্তু আট নম্বরে নামা রিচা ঘোষ চাপের কাছে মাথানত করেননি। ক্রিজে থিতু হওয়ার পর ক্রমে গিয়ার পরিবর্তন করলেন। ৫৩ বলে অর্ধশতরানে পৌঁছনোর পর চেনা মেজাজে ঝড় তুললেন। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করলেন স্নেহ রানাও (২৪ বলে ৩৩)। রিচা কেরিয়ারের প্রথম শতরানও পেতে পারতেন। কিন্তু সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে কোমর সমান উচ্চতার ফুলটসে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। এরপর অবশ্য আর পুরো ওভার খেলতে পারেনি ভারত।