Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যাংক কর্ত্রী সেজে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় ধৃত, লাস্যময়ীর লগ্নির টোপে ধনী ব্যবসায়ীরা

লাস্যময়ী সুন্দরী! ইংরেজি বলিয়ে-কইয়ে ঝাঁ চকচকে প্রোফাইল। বেসরকারি ব্যাংকের কর্ত্রী ‘সেজে’ হাই সোসাইটিতে ঘোরাফেরা

ব্যাংক কর্ত্রী সেজে কোটি কোটি টাকার প্রতারণায় ধৃত, লাস্যময়ীর লগ্নির টোপে ধনী ব্যবসায়ীরা
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৫:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লাস্যময়ী সুন্দরী! ইংরেজি বলিয়ে-কইয়ে ঝাঁ চকচকে প্রোফাইল। বেসরকারি ব্যাংকের কর্ত্রী ‘সেজে’ হাই সোসাইটিতে ঘোরাফেরা। শরীরী সৌন্দর্যকে ‘হাতিয়ার’ বানিয়েই সম্পন্ন লোকজনকে ফাঁদে ফেলা। সমাজমাধ্যমে ‘ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতা’য় আকর্ষণ বাড়ানো, তারপর কাফে-রেস্তোরাঁয় ডেটিং। বিপরীত লিঙ্গ ঘায়েল হওয়া মাত্রই শেয়ার ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগের টোপ ফেলে কোটি কোটি টাকা হাপিস করা! এহেন সুন্দরী প্রতারককে মঙ্গলবার রাতে যাদবপুরের বিজয়গড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মৌমিতা ঘোষ। তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের! এতদিন অনলাইনে শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে প্রতারণার বিস্তর অভিযোগ এসেছে। এবার মৌমিতার মতো সুন্দরী তরুণী-যুবতীদের আসরে নামিয়ে ‘অফলাইনে’ প্রতারণার ফাঁদ পেতে মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে জালিয়াতরা। মৌমিতাকে জেরা করে চক্রের বাকিদের খোঁজ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement


কীভাবে কাজ করত এই প্রতারক চক্র? তদন্তকারীরা বলছেন, মূলত সুন্দরীদের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হত। মৌমিতার মতো সপ্রতিভ চেহারার যুবতীদের কাউকে বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ ‘কর্ত্রী’ সাজিয়ে, কাউকে আবার নামী শেয়ার ট্রেডিং সংস্থার ‘মাথা’ বানিয়ে আসরে নামাত এই প্রতারক চক্র। এক্ষেত্রে মৌমিতা নিজেকে বেসরকারি ব্যাংকের কর্ত্রী হিসেবে ‘টার্গেটে’র সামনে উপস্থাপিত করতেন। সেই অনুযায়ী ভিজিটিং কার্ডও ছাপানো হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, কয়েকমাস আগে যাদবপুর এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। তাতে বলা হয়েছিল, শেয়ার ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করলে লোভনীয় রিটার্ন মিলবে। টোপ গেলেন ওই ব্যক্তি। তাঁকে যুক্ত করা হয় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। কিন্তু টাকা ফেরত পাননি। প্রতারিত ব্যক্তি যাদবপুর থানায় মাসখানেক আগে অভিযোগ করেন। তদন্তের প্রথম পর্যায়ে খোওয়া যাওয়া অর্থের মধ্যে ২৮ লক্ষ টাকা ব্লক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ওই সূত্রটি জানিয়েছে, হাতানো টাকার উৎস সন্ধানে নেমে তদন্তকারীরা দেখেন, যাদবপুরের ব্যক্তির খোওয়া যাওয়া টাকা ঢুকেছে মৌমিতা ঘোষ নামে এক মহিলার অ্যাকাউন্টে। প্রায় ২০ লক্ষ টাকা! তারপর ওই টাকা চলে গিয়েছে অন্য একটি অ্যাকাউন্টে। এরইমধ্যে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মৌমিতা নিজের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করার আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা করেছেন। 


তদন্তকারীরা মৌমিতার বাড়িতে পৌঁছোন। ২০ লক্ষ টাকা কোথা থেকে এসেছিল এবং তা কোথায় বেরিয়ে গেল, তা জানতে চাওয়া হলেও কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি মৌমিতা। উলটে তাঁর দাবি ছিল, সিম ক্লোন করে কেউ এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। তদন্তকারীরা পালটা প্রশ্ন করেন, তাহলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বেরিয়ে যাওয়ার পর মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে গেলেন কেন? অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে, এটা জানার পর কেন তিনি ব্যাংককে জানাননি? কেন অ্যাকাউন্ট ব্লক করার আবেদন করেননি? এবারও কোনও উত্তর দিতে পারেননি মৌমিতা। তখনই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তদন্তকারীরা বলছেন, সাইবার জালিয়াত চক্রের অন্যতম সদস্য এই যুবতী। বাকি কারা ঘুরছে ময়দানে? চলছে তারই খোঁজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ